Meheruba afroz Mitu
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Meheruba afroz Mitu, Health/Beauty, Savar.
27/04/2025
"প্রতিটি রেখায়, প্রতিটি ছায়ায় আমি বন্দি করেছি একেকটি মুখের গল্প।
আপনার প্রিয় মুহূর্তকে অথবা প্রিয় মানুষটিকে চিরকাল ধরে রাখতে চান?
আপনার চাওয়া মতো হ্যান্ডমেড স্কেচ অর্ডার করুন এখন!
নিজের জন্য বা উপহারের জন্য — একটি স্কেচ মানে শুধু ছবি নয়, এক টুকরো আবেগ।
ইনবক্স করুন নিজের ছবিসহ!
[আর্টের সাইজ - A5 , A4 and A3]"
চূড়ান্ত অধ্যায়: “ফেরা মানেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাওয়া নয়”
তিন দিন ধরে তাহমিনা ছেলের পাশেই রইল। তাকে খাইয়ে দিল, মাথায় হাত বুলিয়ে দিল, গল্প বলল সেই পুরনো দিনগুলোর—কীভাবে শোভন ছোটবেলায় প্রথমবার ভেঙে ফেলেছিল ঘড়ি, কেমন করে পাখি ধরতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে গিয়েছিল।
শোভন কথা বলতে পারে না, কিন্তু তার চোখ দিয়ে সব উত্তর আসে—একবার কান্না, একবার ছোট্ট হাসি।
চতুর্থ দিন সকালে তাহমিনা বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালকের কাছে গেল।
“আমি ছেলেকে নিয়ে ফিরতে চাই।”
পরিচালক অবাক।
“আপনি পারবেন তো, উনার অনেক যত্ন লাগে—দিনে চারবার ওষুধ, থেরাপি...”
তাহমিনা হালকা হেসে বলল,
“সে তো আমার বাচ্চা। ওর পায়ে ব্যথা হলে আমার বুক জ্বলে। আমি তো ওকে আগেও আগলে রেখেছি, আবার পারব।”
সাত দিন পরে, গ্রামের সেই টিনের ঘরে বৃষ্টি পড়ছে।
শোভনের বিছানাটা জানালার পাশে রাখা হয়েছে—যেখান থেকে বাইরে দেখা যায় ধানখেত, আকাশ, আর মাঝেমধ্যে উড়ে যাওয়া পাখি।
তাহমিনা এখন আর একা না।
প্রতিদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে সে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে। আর সন্ধেবেলা তার কাঁধে মাথা রেখে গান চালায়—রবীন্দ্রসংগীত।
“আমার বুকের মধ্যে বসত করে কে যে আসে যায়…”
আর শোভন ধীরে ধীরে ঠোঁট নাড়ে—কথা হয় না, কিন্তু চোখে সব কথা লেখা থাকে।
একদিন ডাক পিয়ন আবার আসে। চিঠি নয়, এবার একটা প্যাকেট।
ভেতরে একটা মোটা খাতা, আর প্রথম পাতায় লেখা—
“চিরকুটের গল্প – এক মায়ের দিনলিপি”
নিচে লেখা—
লেখিকা: তাহমিনা খাতুন
সে এখন লিখে—প্রতিদিন।
নিজের যন্ত্রণা, অপেক্ষা, ফিরে পাওয়ার গল্প।
কারণ সে জানে, অনেক মা আছে… যারা আজও একটা চিরকুটের অপেক্ষায়।
শেষ।
Writing by MM
অধ্যায় ৪: “যার নাম লেখা ছিল না”
তাহমিনা ছেলের পাশে বসে থাকে পুরো রাত।
তার ছেলের শরীর অর্ধেক পঙ্গু—কিন্তু চোখদুটো এখনো সেই আগের মতোই কথা বলে। শুধু ঠোঁট আর চলে না, কথা আর হয় না।
পরদিন সকালে বৃদ্ধাশ্রমের এক সেবিকা এসে চুপিচুপি বলল,
“আপা, আপনি কি জানেন উনি এখানে কীভাবে এসেছিলেন?”
তাহমিনা চমকে উঠল। “না, কেউ বলেনি…”
সেবিকা বলল, “প্রায় দেড় বছর আগে, রাত তিনটার সময় একটা গাড়ি এসে থেমেছিল। কেউ নামেনি, শুধু এই ছেলেটাকে স্ট্রেচারে শুইয়ে রেখে, দরজার সামনে ফেলে দিয়ে চলে গেছে। কারও নাম ছিল না, কোনো কাগজ ছিল না—শুধু একটা সাদা খাম ছিল সঙ্গে।”
তাহমিনা থমকে গেল।
“খাম?”
“হ্যাঁ, শুধু লেখা ছিল—‘চিরকুট’।”
তাহমিনা তখন বুঝল, সেই চিঠি… যেটা তার কাছে এসে পৌঁছেছিল… সেটা এখানেই লেখা হয়েছিল।
তবে… কে লিখেছিল?
সেবিকা খাটের পাশ থেকে একটা ফাইল বের করে আনল।
“উনার ব্যাগে কিছু ছিল। আমরা রেখে দিয়েছিলাম। আপনি দেখে নিন।”
তাহমিনা ফাইল খুলে দেখল—একটা মেডিকেল রিপোর্ট, পাসপোর্ট, আর একটা ছোট নোটবুক।
নোটবুকের শেষ পাতায়, কাঁপা হাতে লেখা—
“আমি শোভন। আমি জানি আমি ফিরতে পারব না।
কিন্তু আমার মা যেন জানে, আমি কখনও তাকে ছেড়ে যাইনি।
আমার জন্য কেউ কেঁদে পড়ে থাকবে, জানি…
তাকে এই চিরকুট পৌঁছে দিও, যে লিখবে…
সে যেন শুধু একটাই কথা লিখে—‘ভালোবাসি মা’।
তাহলেই হবে।”
তাহমিনা বুঝল—শোভন নিজে লেখে যেতে পারেনি সেই চিরকুট।
তার হয়ে লিখেছিল সেই সেবিকা।
যে নিজের নাম লেখেনি।
যার কোনো পরিচয় নেই।
তবু একটা মাকে তার সন্তানের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিল।
তাহমিনা ফ্যালফ্যাল করে সেবিকার দিকে তাকিয়ে রইল।
সে আর কিছু বলল না। শুধু একটা শান্ত হাসি দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
চলবে…
Writing by MM
অধ্যায় ৩: “মেঘের ওপারে যদি আলো থাকে”
তাহমিনা ঠিক করেছিল—সে চুপ করে আর বসে থাকবে না।
এক সকালে গরিবের মতো গাঁটরি বেঁধে, একটা পুরনো শাড়ি পরে সে রওনা দিল ঢাকার উদ্দেশ্যে। সঙ্গে মিজান স্যার লিখে দিয়েছিলেন ঠিকানাটা—বৃদ্ধাশ্রম “স্নেহনীড়”।
ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকিয়ে সে পুরনো সব দৃশ্য খুঁজে বেড়াল—একটা স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়লে মনে হলো, শোভনকে একদিন এখান থেকেই সে বিদায় দিয়েছিল
চলো, "একটি চিরকুটের জন্য" উপন্যাসের তৃতীয় অধ্যায়ে পা রাখি—যেখানে ভালোবাসা আর শোকের ছায়া আরও ঘন হয়ে আসে, আর তাহমিনার সামনে খুলে যায় এমন এক সত্য, যেটা সে কখনও ভাবেননি
অধ্যায় ৩: “মেঘের ওপারে যদি আলো থাকে”
তাহমিনা ঠিক করেছিল—সে চুপ করে আর বসে থাকবে না।
এক সকালে গরিবের মতো গাঁটরি বেঁধে, একটা পুরনো শাড়ি পরে সে রওনা দিল ঢাকার উদ্দেশ্যে। সঙ্গে মিজান স্যার লিখে দিয়েছিলেন ঠিকানাটা—বৃদ্ধাশ্রম “স্নেহনীড়”।
ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকিয়ে সে পুরনো সব দৃশ্য খুঁজে বেড়াল—একটা স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়লে মনে হলো, শোভনকে একদিন এখান থেকেই সে বিদায় দিয়েছিল। চোখের কোণে জল, কিন্তু মুখে একটুও কম্পন নেই।
দুই দিন পর, তাহমিনা “স্নেহনীড়” পৌঁছাল।
লাল ইটের দোতলা বাড়ি। চুপচাপ। কোথাও কোনো শব্দ নেই, শুধু এক বৃদ্ধ নারীর কান্না ভেসে আসছিল দূর থেকে।
সিস্টারের কাছে নাম বলতেই সে একটু থমকে গেল, বলল, “একজন আছেন... তবে উনি কারও সঙ্গে কথা বলেন না।”
তাহমিনার বুকটা কেঁপে উঠল।
ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো এক ঘরে।
একটা চেয়ারে বসে এক যুবক। মুখ নিচু। শরীরের এক পাশ ঝুলে আছে। কিন্তু চোখ... সে চোখে কিছু একটায় আলো জ্বলছিল।
তাহমিনা সামনে গিয়ে দাঁড়াল। কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল।
ছেলেটি ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকাল তাহমিনার দিকে।
দুই চোখে জল। ঠোঁট কাঁপছে।
তাহমিনা ধীরে ধীরে তার পকেটে হাত দিল।
চিরকুটটা বের করে ছেলের হাতে রাখল। ছেলেটি হাত দিয়ে তা ছুঁল... তারপর হঠাৎ ঠোঁট দিয়ে বলার চেষ্টা করল—
“মা…”
শব্দটা পুরো এল না, কিন্তু তাহমিনার কানে সেটা বজ্রের মতো বাজল। সে ছেলেকে জড়িয়ে ধরল।
তিন বছর পর একটা মা তার ছেলেকে ফিরে পেল।
অর্ধেক। কিন্তু তবুও সম্পূর্ণ।
চলবে...
অধ্যায় ২: “চোখের জল শুকিয়ে গেলে”
তিন দিন পেরিয়ে গেছে সেই চিঠির পর।
তাহমিনা চিঠিটা প্রতিদিন পড়ে। পড়ে আর বুকের কাছে রাখে। গন্ধটা একবার নেয়—একটু স্যাঁতসেঁতে, কাগজের গন্ধ, যেন খুব দূর থেকে এসেছে।
কিন্তু একটা প্রশ্ন কুরে কুরে খাচ্ছে—চিঠিটা দিল কে?
শোভন তো ফোনও ধরত না। বিদেশ থেকে কেউ কী করে চিঠি পাঠাল, তাও নিজের নাম না লিখে?
সন্ধেবেলা তাহমিনা হাঁটতে বের হয়—গ্রামের মেঠো পথ ধরে। মানুষ তাকে দেখে, কিন্তু কেউ কিছু বলে না। এই তিন বছরে সে একা হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তার চোখে একরাশ অপেক্ষা যেন জমে আছে। কেবল একজন মানুষ—পুরনো স্কুলশিক্ষক মিজান স্যার—তাকে মাঝে মাঝে দেখে, এবং একদিন থামিয়ে বলল—
“তাহমিনা, তোমার ছেলের খোঁজ পাওনি এখনও?”
তাহমিনা মাথা নাড়ে।
মিজান স্যার কাঁপা গলায় বললেন, “তুমি জানো, বছরখানেক আগে আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম। তখন একটা বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে এক ছেলেকে দেখলাম, সে অদ্ভুত শান্ত চোখে তাকিয়ে ছিল। তার মুখ অনেকটা শোভনের মতো… কিন্তু কিছুই বলল না।”
তাহমিনা চমকে উঠল।
“তোমার ছেলের মতো লাগছিল, কিন্তু তার শরীরের এক পাশ পুরো পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিল।”
তাহমিনার ঠোঁট কাঁপতে শুরু করল।
সে বাড়ি ফিরে এল, চিঠিটা আবার পড়ল।
এবার বুঝল—চিঠির অক্ষরগুলো হালকা কাঁপা, অসমান। যেন কেউ কষ্ট করে লিখেছে, যাকে হাত ঠিকমতো কাজ করে না।
সে হঠাৎ চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করল।
নীরব বারান্দা, টিনের ঘর, আর বাইরে আবার বৃষ্টি নামল। সেই চেনা শব্দ।
তবে এবার সে জানে—বৃষ্টি নয়, এ কান্নার ছায়া।
চলবে...
উপন্যাসের নাম: "একটি চিরকুটের জন্য"
অধ্যায় ১: “বৃষ্টি পড়ে টিনের ঘরে”
তাহমিনা একা। বয়স এখন ষাট ছুঁইছুঁই। একসময় গানে ভরা ছিল তার দিন—রেডিওতে রবীন্দ্রসংগীত বাজত, বারান্দায় রোদ পড়ত, আর রান্নাঘর থেকে ভেসে আসত স্বামীর হাসি। আজ সেসব শুধু স্মৃতি।
তিন বছর আগে, তাহমিনার একমাত্র ছেলে, শোভন, বিদেশে চলে যায়। যাওয়ার আগে বলেছিল, “মা, তুই একটু কষ্ট কর, আমি ফিরে এলেই তোকে রাজকন্যার মতো রাখব।” তাহমিনা শুধু হাসি দিয়ে বলেছিল, “ফিরে আয়, তোর মুখটাই আমার রাজত্ব।”
কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেছে, ফোন ধরা হয় না, চিঠি আসে না, ভিডিও কলে দেখা হয় না। তাহমিনা প্রতিদিন সেই পুরনো খাতা খুলে রাখে—যেখানে শোভন একদিন লিখেছিল, “মা, আমি তোর ছায়া, আমি হারিয়ে যাব না।”
এখন তাহমিনা কেবল বৃষ্টি ভালোবাসে। কারণ বৃষ্টি হলে কেউ বোঝে না সে কাঁদছে।
একদিন হঠাৎ ডাকঘরের পিয়ন একটা চিঠি দিয়ে গেল। চিঠির খামে কোনো নাম নেই, শুধু লেখা—“চিরকুট”।
চিঠিতে লেখা—
“যদি আমি আর ফিরতে না পারি, মা, তুই কি আমাকে ক্ষমা করবি?
আমি জানি, তোর জন্য আমি একটা শূন্যতা রেখে গেছি, যেটা কেউ পূরণ করতে পারবে না।
তবুও তুই অপেক্ষা করিস, আমি প্রতিদিন তোর পাশে থাকি।
তুই যখন খেতে বসিস, আমি থাকি। তুই যখন গান চালাস, আমি শুনি।
তুই শুধু ভুলে যাস না, আমি হারাইনি—আমি তোর প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে আছি।
ভালোবাসি, মা।”
তাহমিনা চিঠিটা বুকে চেপে ধরে বারান্দায় বসে। বৃষ্টির শব্দে মিশে যায় তার দীর্ঘশ্বাস। সে জানে, চিঠিটা আসলে কে পাঠিয়েছে কেউ জানে না, কিন্তু সে জানে—ওটা শোভনের লেখা। কারণ শুধু সে জানত, তাহমিনা এখন শুধু বৃষ্টি ভালোবাসে।
চলবে...
Writing by MM
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Savar
