Arfin Ronik.

Arfin Ronik.

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Arfin Ronik., Health/Beauty, Sakhipur Tangail, Tangail.

16/06/2023

আমার স্ত্রী দেখতে কালো বলে আমার মা আগে থেকেই বলে রেখেছে আমার স্ত্রী ভুলেও যেন সকালে আমার ছোট বোনের রুমে না যায়। আমার ছোট বোন ৭মাসের প্রেগন্যান্ট।মেয়ের যেন এই অবস্থায় কোন অযত্ন না হয় তাই মা ছোট বোনকে নিজের কাছে এনে রেখেছেন।

সেদিন সকালে ছোট বোনের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে গেলো। তড়িঘড়ি করে বোনের রুমে গেলাম। ভাবলাম বোনের আবার কোন সমস্যা হলো না কি। রুমে গিয়ে দেখি আমার ছোট বোন আমার স্ত্রীকে বলছে,
-”তোমাকে না বলেছি সকাল সকাল আমার রুমে না আসতে।সকালে ঘুম থেকে উঠে তোমার চেহাটা দেখলেই আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।”

আমি আমার ছোট বোনকে বললাম,
--তোর রুমে এসেছে বলে কি হয়েছ? তাছাড়া আমার বউয়ের চেহারার মাঝে কি এমন আছে যার জন্য তোর মেজাজ খারাপ হয়ে যায়?

ছোটবোন কিছু না বলে চুপ হয়ে আছে। অন্য রুম থেকে তখন মা এসে বললো,
-” সকালে ঘুম থেকে উঠে অলক্ষ্মীর চেহারা দেখলে কার মেজাজ ভালো থাকে? আমার মেয়েটার কয়েকদিন পর বাচ্চা হবে। মেয়েদের বাচ্চা হবার আগে আগে যার চেহারা বেশি বেশি দেখবে বাচ্চা তার মতই হবে। আমি চাই না আমার মেয়ের সন্তান তোর বউয়ের মত হোক। দুনিয়ার সব মানুষ তো তোর মত বোকা না যে কালো চামড়ার মেয়ে বিয়ে করবে।”

আমি আমার মাকে কিছু না বলে বোনের দিকে তাকিয়ে বললাম,
--আমার মা না হয় সল্প শিক্ষিতা তাই এইসব কুসংস্কার বিশ্বাস করে।কিন্তু তুই তো ইন্টার পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিস। তোর কি এইসব জিনিস বিশ্বাস করতে হয়?

এই কথাটা বলে আমি যখন আমার রুমে আসলাম তখন আমার স্ত্রী আমার দিকে হাসিহাসি মুখে তাকিয়ে বললো,
-”আজ দুপুরে কি রান্না করবো?”
ওর হাসিমাখা মুখটা দেখে আমি খুব অবাক হয়ে গেলাম। কিছুক্ষণ আগে যে মেয়েটাকে আমার মা বোন এতো অপমান করলো তারপরেও সেই মেয়েটার মুখে এখনো হাসিটা কিভাবে লেগে আছে! হয়তো অতি কষ্ট পেয়েই মিথ্যা হাসির অভিনয় করছে।

আমি আমার স্ত্রীর হাতটা ধরে বললাম,
--আমার মা বোনের কথায় খুব কষ্ট পেয়েছো তাই না?
আমার স্ত্রী হেসে বললো,
-” একদম না।এইসব কথাতে আমি অনেক আগে থেকেই অব্যস্ত”
আমি অবাক হয়ে বললাম,
--মানে!
আমার স্ত্রী তখন বললো,
-” আপনাকে ছোট তিনটা ঘটনা বলি। কলেজে পড়া অবস্থায় অন্য সবার মতো আমারও ইচ্ছে হতো সাজতে। তো পাহেলা ফাল্গুনের দিন আমিও সবার মতো শাড়ি পরলাম। সবার মত আমিও সাজলাম। বাহিরে বের হওয়ার জন্য যখন বাসা থেকে বের হলাম তখন পাশের বাসার আন্টি আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলেছিলো "যতই মেকাপ করো না কেন কালো কাক কখনো সাদা বক হতে পারে না!"
সেদিনের পর আর কখনো সাজতে ইচ্ছে হয় নি কারণ কালো মেয়েদের সাজতে হয় না..

একবার কয়েকজন বান্ধবী মিলে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম। বান্ধবীরা যখন সমানে সেলফি তুলছিলো তখন আমিও চেয়েছিলাম সেলফি তুলতে।তখন এক বান্ধবী আমায় বলে বসলো,” তুই সেলফির ভিতর থাকলে পুরো সেলফিটাই নষ্ট হয়ে যাবে।”
এরপর আর কখনো সেলফি তোলার ইচ্ছে হয় নি। কারণ কালো মেয়েদের সেলফি তুলতে নেই...

দেখতে কালো বলে একের পর এক পাত্রপক্ষ যখন বিয়ের জন্য না করে দিচ্ছিলো তখন আমার নিজের মা বলেছিলো,” এই অলক্ষ্মী মেয়েকে জন্ম দিয়ে আমি ভুল করেছি। এই অলক্ষ্মী মেয়ে মরেও না।”
নিজের বাবা বলেছিলো,” এই কপালপুড়ি আমার চোখের সামনে যেন না আসে”

যেখানে আমার নিজের জন্মদাত্রী মা আমায় অলক্ষ্মী বলতে পারে সেখানে পরের মা আমায় অলক্ষ্মী বললে কষ্ট লাগবে কেন? যেখানে আমার জন্মদাতা পিতা আমার মুখ দেখতে চায় না সেখানে তোমার বোন আমার মুখ দেখতে না চাইলে আমার তো তাতে কষ্ট পাওয়ার কথা না।”

কথাগুলো বলা শেষে আমার স্ত্রী ওর চোখের কোণে জমা থাকা জলটা মুছলো অথচ ওর মুখে তখনো হাসিটা লেগে আছে। আমি বুঝতে পারছিলাম এই হাসিটার ভিতর কতটা যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে।
---
-----
দেড়মাস পরের ঘটনা আমার বোনের শরীরের অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলে এখনি সিজার করতে হবে তা না হলে পেটের বাচ্চার ক্ষতি হবে। ডাক্তার আমার বোনকে অপারেশন থিয়েডারে নিয়ে যাওয়ার আগে বললো তাড়াতাড়ি ও-নেগেটিভ রক্তের ব্যবস্থা করতে। আমরা আগে থেকে যে ডোনারের সাথে কথা বলে রেখেছিলাম তাকে যখন ফোন দেই রক্তের জন্য তখন সে বলে, আমরা কেন থাকে আগে ভাগে জানায় নি? সে এই মুহুর্তে ঢাকার বাহিরে আছে। আমরা সবাই যখন ও-নেগেটিভ রক্তের জন্য ছুটাছুটি করছিলাম সেটা আমার স্ত্রী জানতে পেরে বাসা থেকে আমায় ফোন দিয়ে বললো,রক্তের জন্য চিন্তা না কারতে কারণ ওর রক্তের গ্রুপ ও-নেগেটিভ। ও এখনি হাসপাতালে আসছে ।
আমি ফোন রেখে আমার মায়ের কাছে গেলাম। মা তখন আল্লাহকে ডাকছে আর কান্নাকাটি করছে।আমি মায়ের পাশে বসতে বসতে বললাম,
--মা, রক্ত দেওয়ার মানুষ পাওয়া গেছে কিন্তু সমস্যা হলো লোকটা কালো। কালো মানুষের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া কি উচিত হবে? পরে যদি বাচ্চা কালো হয়?

মা রাগী চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-” রক্তের মধ্যে কালো মানুষ আর ফর্সা মানুষের ভেদাভেদ কি? ফর্সা মানুষের রক্ত যেমন লাল হয় তেমনি কালো মানুষের রক্তও লাল হয়। তাছাড়া কালো মানুষের শরীর থেকে রক্ত নিলে যে পেটের সন্তান কালো হবে এমন আজগবি কথা তোকে কে বলেছে?”
আমি আর কিছু না বলে চুপচাপ মায়ের সামনে থেকে চলে গেলাম।

পরদিন সকালে খেয়াল করি আমার মা আমার ভাগ্নীকে কোলে নিয়ে বসে আছে। পাশের বেডে আমার বোন শুয়ে আছে। আমি হাসিমুখে আমার মাকে বললাম,
--আচ্ছা মা, রক্তে যদি ফর্সা কালোর কোন ভেদাভেদ না থাকে তাহলে চামড়াই কেন মা এতো ভেদাভেদ? কালো মানুষের রক্ত শরীরে নিতে সমস্যা নেই অথচ কালো মানুষের চেহারা দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় কেন? মা কখনো চামড়া দেখে মানুষকে বিবেচনা করতে নেই বরং চামড়ার ভিতরে থাকা মানুষটাকে দেখে বিবেচনা করতে হয়। তোমাদের এত অপমানের পরেও আমার স্ত্রী মনে একটুও রাগ পুষে রাখি নি বরং সময়ে নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে আমার বোনকে বাঁচিয়েছে।

মা আমার কথা শুনে নিরব হয়ে আছে। আমি তখন পাশে শুয়ে থাকা ছোট বোনকে বললাম,
--যে মানুষটা তোর এত অপমান সহ্য করার পরেও তোকে বাঁচাতে সাহায্য করেছে তাকে সম্মান দিতে না পারলেও কখনো অপমান করিস না বোন।

হঠাৎ খেয়াল করি দরজার পাশে আমার স্ত্রী দাঁড়িয়ে। ছোটবোন আমার স্ত্রীকে দেখে বললো,
-” ভাবী, তুমি দূরে দাঁড়িয়ে আছো কেন? কাছে এসে আমার মেয়েটাকে একটু কোলে নাও। আর শুনো আমার মেয়ের নাম কিন্তু তোমার ঠিক করে দিতে হবে।”

বাচ্চাকে কোলে নিবার সাথে সাথেই আমার স্ত্রী কেঁদে দিলো।আমার স্ত্রীর কান্না দেখে আমার মা আর বোনও কেঁদে দিলো। মা মেয়েদের কান্নার আনন্দময় মিলন মেলায় আমি আর দাঁড়িয়ে না থেকে কেবিন থেকে বের হয়ে আসলাম। মনের অজান্তে একফোঁটা চোখের জল আমার চোখেও জমা হয়েছে

#কালো_চামড়া
#আবুল_বাশার_পিয়াস

13/06/2023

ভার্সিটিতে প্রথম দিন এসেই র্্যাগিং এর শিকার হবে তা ভাবতে পারে নি নিঝুম! ভয়ে তার শরীর ঝিম মেরে বসে আছে। সামনের ছেলেটা ( আহিম ) বাঁকা হেসে তার দিকে চিরকুট টা বাড়িয়ে দিল। শুকনো ঢোক গিলে চশমা হাত দিয়ে ঠিক করে কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের হাত বাড়িয়ে দিল নিঝুম। চিরকুট হাতে পেতেই শক্ত করে মুঠ করে নিল। ছেলে গুলোর সাথে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েগুলো এসে নিঝুম কে ঘিরে ধরল। হাত দিয়ে ইশারা করে দূরের একটা ছেলেকে দেখিয়ে বলল,

"ওই যে দেখছো, ওই ছেলেটাকে গিয়ে এই চিরকুট টা দিয়ে আসো যাও!

নিঝুমের ঠোঁট কাঁপছে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ককককি আছে এইইই চিরকুটে?

ডান পাশের মেয়েটা ( দিয়া ) নিঝুমের গলা জড়িয়ে বলল, কি আছে জানতে চাও!

মাথা নাড়ল নিঝুম। মেয়েটা হেসে বলল, প্রেমপত্র!

নিঝুমের শ্বাস বোধহয় বন্ধ হয়ে যাবে। বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে। ভয়ে তার আত্না শুকিয়ে যাচ্ছে। বাম পাশের মেয়েটা ( রিয়া ) হেসে বলল, আরে আরে সত্যি ভাবলে নাকি। না না তেমন কিছু না। শুধু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে তা'ই দিয়ে আসো। বিশ্বাস না হলে তুমি খুলে দেখো। কি দেখবে?

"ননননা ঠিক আছে। আমিই দিয়ে আসছি। এরপর যেতে দিবে তো আমায়!

পেছনের মেয়েটা ( তানিশা ) এসে সামনে দাঁড়িয়ে বলল, তোমাকে আটকে রেখে আমার লাভ কি বলোতো। আচ্ছা নামটা যেনো কি বলেছিলে তোমার!

"ননিঝুম!

"Whatever, যাও যাও দিয়ে আসো !

পাশের দুই মেয়ে তাকে ঢেলে পাঠালো। নিঝুম ভয়ে ভয়ে আগাচ্ছে। পেছন থেকে সবাই চেঁচিয়ে তাকে চিয়ারাপ করছে। এ যেন কোন যুদ্ধে যাচ্ছে। নিচু হয়ে হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর এসে পড়ল নিঝুম। আশপাশ তাকিয়ে ছেলে টাকে খুঁজতে লাগল। "না দেখতে পাচ্ছি না তো, এই তো এখানেই ছিল। এখন গেলো কোথায়? চলে গেল নাকি? এতো তাড়াতাড়ি! এখন কি হবে? চিরকুট না দিয়ে গেলে তো তারা আমাকে ছাড়বে না। ধুর ভালো লাগেনা আমার সাথে হতে হয় এমনটা!

কাঁদো কাঁদো মুখ ঘুরে পেছন ফিরতে দেখে ছেলেটা তার জায়গায় বসে আছে। সেইই হাঁটতে হাঁটতে ছেলেটাকে পার করে এগিয়ে এসেছে। দাঁত বের করে হাসল সে। গুটি গুটি পায়ে এসে হাজির হলো ছেলেটারে সামনে। বেঞ্চেতে বসে বইয়ে মুখ গুঁজে বসে আছে ছেলেটা। নিঝুম তার মুখ দেখবার জন্য ব্যস্ত হয়ে গেল। হুট করে বই টা একটু নিচু হলো। নিঝুম ছেলেটার দিকে হা হয়ে তাকিয়ে রইল। এতো সুদর্শন ছেলে খুব কম'ই দেখেছে সে। কিন্তু সামনে থেকে আজ এই প্রথম বার ছেলেটা কে দেখল নিঝুম। চোখ বড় বড় করে তার দিকেই তাকিয়ে রইল। চারদিকের সবকিছু থমকে গেছে তার সাথে। মনে হচ্ছে শুধু এখানেই সে আর এই ছেলেটাই আছে।

পাশ থেকে কেউ কাগজের ঢিল ছুড়ে মারল। নিঝুম লাফিয়ে উঠল। পাশে ফিরে দেখল সেই ছেলে মেয়ে গুলো। তাকে ইশারায় চিরকুট'র কথা বলছে। নিঝুমের বোধ হলো। ঢোক গিলে বলল, আমাকে তারা এদিকে পাঠিয়েছে, বলেছে এই চিরকুট আপনাকে দিতে। প্লিজ চিরকুট টা নিয়ে নিন!

কোন জবাব পেলো না। ছেলেটা এক মনে বই পড়ে যাচ্ছে। নিঝুম আবারো ডাকল তাকে। কোন সাড়া না পেয়ে ওই ছেলেমেয়েগুলোর দিকে তাকাল। তারা আবারো ইশারায় বলছে চিরকুট দিতে। নিঝুম একটু এগিয়ে এসে চিরকুট টা হাত দিয়ে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আপনি এটা নিন প্লিজ। আমার ক্লাস শুরু হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। দয়া করে নিন এটা!

ছেলেটা হাত বাড়িয়ে চিরকুট টা নিল। কিন্তু নিঝুমের দিকে ফিরল না। নিঝুম অবাক হয়ে গেল। ছেলেটাকে এখন আরও কাছ থেকে দেখছে সে। বইয়ের মাঝেই ডুবে আছে সে। নিঝুম পা পিছনে বাড়িয়ে নিল। আবারো এলো সেই ছেলে মেয়ে গুলোর কাছে। বলে উঠল, আমি দিয়ে এসেছি, এখন আমি ক্লাসে যাই!

যেই না যেতে যাবে অমনি এসে তাড়া আবার তার সামনে এসে দাঁড়াল। সামনের সুন্দরী মেয়েটা ( তানিশা ) হেসে বলল, আহ তুমি তো শুধু দিয়েই এলে কিছু তো আনলে না।

"কিছু আনার কথা ছিল কি?

"কেন তুমি গিভ অ্যান্ড টেক কথাটা শুনো নি।

"গিভ অ্যান্ড টেক!

সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠল। মেয়েটা বলল,‌ যাও যাও আগে জবাব নিয়ে এসো এরপর তোমাকে যেতে দেবো। বুঝলে!

"কিন্তু আমি..

কিছু শুনলো না তারা। তাকে ধরে আবারো ছেলেটার কাছে পাঠালো। বিচলিত হয়ে ছেলেটার সামনে আবারো দাঁড়িয়ে আছে নিঝুম। তার গলা বার বার শুকিয়ে যাচ্ছে। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না সে। নিঝুম মাথা তুলে আবারো তাকাল ছেলেটার দিকে। এবারো তার মুখের সামনে বই! নিঝুম এবার তার মুখ না দেখে বই টা পড়ার চেষ্টা করল। কিসের বই এটা? কোন ইংরেজী বই হবে বোধহয়। নিঝুম খানিকটা নিচু হয়ে বই পড়ার চেষ্টা করছে। হঠাৎ দেখল বই টা আরো নিচু হয়ে যাচ্ছে। নিঝুম আরো নিচু হয়ে গেল। প্রায় বসেই পড়ল। হঠাৎ তার বোধ হলো বইটা আর পড়া হচ্ছে না। পড়লে এতো নিচে কি করবে। মাথা তুলে দেখল ছেলেটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। নিঝুম লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। বিস্ময় দৃষ্টিতে আবারো তাকিয়ে রইল ছেলেটার দিকে।

ভ্রু উঠিয়ে ইশারায় ছেলেটা বলতে চাইলো "কি হয়েছে?

নিঝুম থমতম খেয়ে বলল, জবাব নিতে এসেছি!

ছেলেটা ভ্রু কুঁচকালো। নিঝুম দেখল বেঞ্চের এক কোনেই চিরকুট টা পড়ে আছে। নিঝুম হাতের ইশারায় বলল, এই যে চিরকুট, এর জবাব! এটা কিন্তু আমি দিই নি!

ছেলেটা চোখ বুলিয়ে পাশে তাকাল। চিরকুট টা হাতে নিল। এদিকে নিঝুম হাত দিয়ে ওদিকে ইশারা করে বলছে, চিরকুট সে দেই নি তারা তাকে দিয়ে জোড় করে পাঠিয়েছে। ছেলেটা হাসল। তার পাশে থাকা ব্যাগ থেকে একটা কাঠগোলাপ বের করল। তরতাজা এই ফুল দেখে নিঝুম অবাক!

চিরকুটের উপর ফুল রেখে তা বাড়িয়ে দিল নিঝুমের কাছে। নিঝুম নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। স্নিগ্ধ বাতাস, নির্বাক এই পরিবেশে কোথায়ও যেন হারিয়ে গেল সে। অনেকক্ষণ ধরে হাত বাড়ানোর পরও চিরকুট না নেওয়ায় ছেলেটা নিজেই উঠে দাঁড়াল। নিঝুম শ্বাস বন্ধ করে নিল। ছেলেটা এসে তার কাছে দাঁড়িয়ে হাত বাড়াল। নিঝুম চোখ বড় বড় করে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা ইশারায় বলেই যাচ্ছে চিরকুট নিতে। এক পর্যায়ে নিঝুম হাত বাড়াল। চিরকুট হাতে নিতেই ছেলেটা আবারো বেঞ্চিতে বসে বই পড়তে লাগলো। নিঝুম এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে চিরকুট'র দিকে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার, হবেই তো শ্বাস বন্ধ করে আছে সে। জলদি করে শ্বাস নিতে শুরু করল। ঘন ঘন শ্বাস ফেলে তাকাল ছেলেটার দিকে। তবুও ছেলেটা তার দিকে ফিরে তাকাল না। বইয়ের মাঝেই মুখ গুজে রইল।

তানিশা নামের মেয়েটা ছো মেরে নিঝুমের হাত থেকে চিরকুট নিল আর তাকে বলল চলে যেতে। নিঝুম পাশ দিয়ে যেতেই দেখল তানিশা ধপাস করে নিচে পড়ে গেল। ছুঁড়ে ফেলে দিল কাঠগোলাপ টা। চিরকুট টা হাতের মাঝে মুঠো করে নিল। নিঝুম অবাক হয়ে গেল। দলবল নিয়ে রাগতে রাগতে চলে গেল সে।
তারা যেতেই নিঝুম এলো সেই ফুলের কাছে। হাত বাড়িয়ে ফুলটা নিল সে। কি স্নিগ্ধ ফুলখানা! মেয়েটার মনে কি মায়াদয়া নেই। কিভাবে এই ফুল ফেলে দিল সে। কতোটুকু ভালোবাসা নিয়ে এই ফুল জন্মেছে সে কি জানে!

নিঝুম মিটিমিটি হেসে ফুলটা কে দেখতে লাগল। হুট করেই কেউ এসে তার হাতে ধাক্কা দিয়ে ফুলটাকে আবারো ফেলে দিল। আতংকিত গলায় বলে উঠল, তুলো না ওই ফুল, তুলো না!

নিঝুম অবাক দৃষ্টিতে মাটিতে পড়ে থাকা সেই ফুলটার দিকেই তাকিয়ে রইল!

চলবে....

তোমার_মনের_মধ্যিখানি 🌼
মিমি_মুসকান
সূচনা_পর্ব

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Tangail?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address


Sakhipur Tangail
Tangail