Megh Creation
At Megh Creation, we celebrate the rich tapestry of creativity and craftsmanship.
রাতভর ঘুমের মধ্যেই কাজ করবে এই Magic উপাদান 😴 ঘুম থেকে উঠে ত্বক হবে Glass Skin উজ্জ্বল দাগহীন 💫 মুখে বয়সের ছাপ, দাগ আর ট্যান হবে গায়েব ..
💁নিয়মিত ২–৩ সপ্তাহ এই স্টেপ গুলি ফলো করলে ত্বকে পরিবর্তন চোখে পড়বেই – গ্লো, নরমভাব, ফাইন লাইন হালকা হবে, দাগ ও ট্যান কমে হয়ে ত্বকে বয়সের ছাপ দূর হতে থাকবে।
(এই বিষয়ে Be Natural Informative পেজে অনেক ভিডিও আছে দেখে নিন )
🔴🟢♦️আমি ৭ দিনের রুটিন দিলাম
1.সোম/বুধ/শুক্র: স্টেপ 3 করুন Hydrating বা Brightening পানীয় ।
2.মঙ্গল/বৃহস্পতিবার: স্টেপ 3 করুন Anti-aging পানীয়
3.শনিবার/রবিবার: স্টেপ 1,এবং স্টেপ 4 ফলো করুন শুধু ক্লিনজিং + ময়েশ্চারাইজার (ত্বক বিশ্রাম পাবে)
4.প্রতিদিন : স্টেপ 2 , স্টেপ 5 ফলো করুন
🔴🟢স্টেপ 1 — ক্লিনজিং
* প্রথমে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে।
* মেকআপ থাকলে অবশ্যই মেকআপ রিমুভার ব্যবহার করুন।
🔴🟢স্টেপ ২: টোনিং
* গোলাপ জল বা শসার জল তুলার সাহায্যে মুখে লাগিয়ে নিন। কিংবা স্প্রে করে নিতে পারেন।
* এতে ত্বক ফ্রেশ হবে ও পরের ধাপের জন্য প্রস্তুত হবে।
🟢🔴স্টেপ ৩: ত্বকের পানীয় (পাল্টে পাল্টে ব্যবহার করুন যেকোনো একটি, সব একসাথে না )
♦️1️⃣ শসা + অ্যালোভেরা জেল Hydrating পানীয়
( শুষ্ক ও ডিহাইড্রেটেড ত্বকের জন্য)
🔹উপকরণ:
* শসার রস – ২ চামচ
* অ্যালোভেরা জেল – ১ চামচ
🔹 ব্যবহার:
* দুটো মিশিয়ে পাতলা সিরাম তৈরি করুন।
* ঘুমানোর আগে মুখে মেখে নিন।
* সারারাত রেখে দিন, সকালে শুধু জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
🔹 ফলাফল:
ত্বক হবে সতেজ, নরম ও হাইড্রেটেড, ড্রাই প্যাচ কমে আসবে।
♦️2️⃣ গ্রিন টি + ভিটামিন E "Anti-aging পানীয়"
( বয়সের ছাপ, ফাইন লাইন, দাগ সমস্যা থাকলে)
🔹 উপকরণ
* গ্রিন টি (ঠান্ডা করে রাখা) – ২ চামচ
* ভিটামিন E (Evion 400 ক্যাপসুল) – ১টি
🔹 ব্যবহার
* গ্রিন টি জলে ভিটামিন E মিশিয়ে সিরাম তৈরি করুন।
* তুলার সাহায্যে মুখে লাগিয়ে নিন। কিংবা স্প্রে করতে পারেন।
* সারারাত রেখে সকালে হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
🔹 ফলাফল
ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়বে, ফাইন লাইন হালকা হবে, দাগ ও ক্লান্তি কমবে।
♦️3️⃣গোলাপ জল + মধু "Brightening পানীয়"
( নিস্তেজ, ট্যান পড়া বা দাগযুক্ত ত্বকের জন্য )
🔹 উপকরণ:
* খাঁটি গোলাপ জল – ২ চামচ
* কাঁচা মধু – ১ চামচ
🔹 ব্যবহার:
* ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। বা স্প্রে করতে পারেন।
* সারারাত রেখে সকালে কুসুম গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বা শুকিয়ে গেলে জল দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন।
🔹 ফলাফল:
ত্বক হবে উজ্জ্বল, নরম ও দাগহীন, ব্রণের দাগ বা ট্যান হালকা হবে।
🟢🔴স্টেপ 4: ময়েশ্চারাইজিং
* যদি মাস্ক বা সিরাম ব্যবহার করেন, তবে আগে হালকা ময়েশ্চারাইজার দিন।
* অয়েলি স্কিন হলে জেল বেসড ময়েশ্চারাইজার ভালো।
🔴🟢স্টেপ 5: Overnight Treatment
* মাস্ক/সিরাম মুখে লাগিয়ে ঘুমান।
* সারারাত কাজ করবে, সকালে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
👉 নিয়মিত ২–৩ সপ্তাহ ফলো করলে ত্বকে পরিবর্তন চোখে পড়বে – গ্লো, নরমভাব, ফাইন লাইন হালকা হওয়া, দাগ ও ট্যান কমে আসা।
দীপু এসেছে দাদুর বাড়ি।
না, আজকের মতো বুকিং করা রিসোর্ট না, না কোনো প্ল্যান করা ট্রিপ, গরমকাল মানেই তখন একটাই জায়গা: মামার বাড়ি বা দাদুর বাড়ি।
ট্রেন থেকে নামতেই একটা আলাদা গন্ধ...মাটির গন্ধ, আমের গন্ধ, মানুষের গন্ধ আর ছুটির গন্ধ।
"দীপু এসেছে! দীপুএসেছে!"
চিৎকার করে দৌড়ে আসত ভাইবোনেরা। যে যেখানেই থাকুক, ছুটি মানেই সবাই এক জয়গায়।
একটা বড় উঠোন, একসাথে আট দশ জন বাচ্চা, কারো হাতে লুডো ,কেউ ক্যারাম খেলছে। কেউ গাছ থেকে কাঁচা আম পাড়ছে, কেউ কেউ শুধুই এদিক ওদিক লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। কেউ আবার রান্নাঘরে ঢুকে বলছে
"মাসি, আজকে কি রান্না?"।
উঠোনের একপাশে মামী কাঁঠাল ভাঙছে, চারপাশে গোল হয়ে বসা পরিবারের সবাই। কাঁঠাল খেতে খেতে কাঁঠালের জাত বিচার করছে বড়রা। আর ছোটরা?? সেই কাঁঠালের বিচি দিয়ে কড়ি খেলছে।
দুপুরে সবাই একসাথে মাটিতে বসে খাওয়া, এক থালার ভাত থেকে কেড়ে নেওয়া আলুভাজা, মাংসের টুকরো। আবার কেউ ভালো পিস না পেলে, " আমারটা নে!"
ভাগের আনন্দে পেট ভরানো।
বিকেলে মার্বেল কুড়িয়ে পকেটে ভরা, আর সেই নিয়ে ঝগড়া...
"ওইটা আমার ছিল!"
" না, আমি আগে দেখেছি!"
মায়ের কাপড় কাঁচার কাঠের টুকরো দিয়ে ব্যাট বানিয়ে ক্রিকেট খেলা। পা কেটে গেলে, চুপিচুপি ভাইবোনদের শুশ্রূষা।
বিকেলে ছাদে জল ঢেলে ঠান্ডা করা, তারপর গোল হয়ে বসে গল্প, রাতে লোডশেডিং মানেই ভূতের গল্প, তারার নীচে হাসাহাসি।
গরমকাল মানেই ছিল, শুকতারা, আনন্দমেলা, চাচা চৌধুরী, কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে টানাটানি। তোর পড়া হলে আমার পালা। পড়ার বই তখন প্রতিযোগিতা থেকে অনেক দূরে।
ঘুমানোর সময়?
মেঝেতে সার দিয়ে বিছানা, এক বিছানায় পাঁচ জন, কেউ কারো ওপর পা তুলে শুয়ে আছে, কেউ কাকে গুঁতো মারছে, মশা মারার নাম করে সকালের মারের বদলা নিচ্ছে....
কারো কোনো অসুবিধা নেই।
--------------------------------------
আজ দিপু এসেছে দাদুর বাড়ি। কিন্তু বাড়িটা যেন অন্যরকম। আসব কিনা সেটা জিজ্ঞেস করাও যেন লজ্জার।
যদি সেই বাড়ির লোকদের অসুবিধে হয়!
গেট খুলে ঢুকতেই নীরবতা। মামা অফিসে, মামি কাজে ব্যস্ত। দাদু দিদারাও মুঠোফোনে বন্দী।
ভাইবোনেরা?
একজন অনলাইন ক্লাসে, আরেকজন হেডফোন পরে গেম খেলছে। আরেকজন বইয়ে মুখ গুঁজে....
"এই, বাইরে যাবি?"
দীপু জিজ্ঞেস করে।
"না রে, গরম লাগবে। তাছাড়া সময় নেই.....সিলেবাস শেষ করতে হবে।"
চোখ না তুলেই উত্তর।
ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজানো। কিন্তু একসাথে বসে খাওয়ার সময় কারও নেই। কারও টার্গেট, কারও ডেডলাইন, কারও আবার নিজের সাথে নিজেরই এক দৌড়। সবাই আলাদা আলাদা সময়ে খায়। কেউ ফোনে সিরিজ দেখছে, কেউ স্ক্রল করছে সোশ্যাল মিডিয়া।
ছাদে এখন আর কেউ যায় না,
কারণ গরমের চেয়ে জীবনের চাপটাই বেশি গরম। তাই AC-র ঘরটাই বেশি আরামদায়ক।
রাতে লোডশেডিং হলে?
কেউ আর আকাশের তারা গোনে না, কারণ মাথার ভেতরেই
হাজারটা হিসেব ঘুরতে থাকে।
ভূতের গল্পের বদলে Netflix-এর হরর সিরিজ। আজকাল খুব কম মানুষই বই উপহার হিসেবে দেয় বা নিজেরা কেনে। একটা বোতাম টিপে জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া অনেক সহজ কাজ।
এক বিছানায় পাঁচজন?? অদ্ভুত ভাবনা!!
প্রত্যেকের আলাদা ঘর, আলাদা স্ক্রীন, আলাদা জগৎ। আলাদা লক্ষ্য, আর আলাদা লড়াই।
--------------------------------------------------------------
সেকাল বা একালের দীপুরা...
চারপাশে সব আছে,
সুবিধা, আরাম, প্রাইভেসি, নিজের মতো থাকার স্বাধীনতা।
শুধু নেই......
একটু সময়,
একটু একসাথে থাকা,
একটু নির্ভেজাল হাসি।
আগে হয়তো কম ছিল অনেক কিছু, কিন্তু মানুষগুলো ছিল কাছে।
এখন সবকিছু আছে, শুধু মানুষগুলো একটু দূরে সরে গেছে,
সময়ের চাপে, প্রতিযোগিতার দৌড়ে, নিজেকে প্রমাণ করার ব্যস্ততায়।
এটা ভালো না খারাপ, দীপুরা জানে না।
হয়তো এটাই সময়ের নিয়ম....
অথবা, দীপু রা নিজেরাই একটু একটু করে বদলে ফেলেছে 'একসাথে থাকা'টা!!
কোন দীপু রা ভালো ছিল,
সেটা হয়তো সময়ই জানে.....
অথবা.........
আপনি বা আমি!
✍️ মেঘ চট্টোপাধ্ায়
পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর—আজকের দিনে যার নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কারখানার ধোঁয়া, আলো ঝলমলে রাস্তা আর ব্যস্ত জীবনের ছন্দ—সেই শহরের জন্মকথা কিন্তু একেবারেই অন্যরকম। এই গল্প শুরু হয় অনেক অনেক বছর আগে, যখন এই পুরো অঞ্চলটাই ছিল গভীর জঙ্গলে ঢাকা, যেখানে দিনের আলোও মাটিতে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারত না, আর মানুষের পদচিহ্ন ছিল বিরল। বাতাসে ছিল অজানা ভয়, আর রাত নামলেই চারদিক যেন রহস্যে ঢেকে যেত।
১৭৬৫ সালের দিকে, বাঁকুড়ার জগন্নাথপুর গ্রামের গোপীনাথ চট্টোপাধ্যায় একদিন বেরিয়ে পড়লেন বর্ধমানের রাজার কাছে শেখ বা রাজস্ব জমা দিতে। দায়িত্ব ছিল বড়, আর সেই দায়িত্ব পালন করতেই তাঁকে পাড়ি দিতে হয়েছিল সেই ভয়ঙ্কর জঙ্গলময় পথ। দিনের আলো ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছিল, আর তিনি যত এগোচ্ছিলেন, ততই জঙ্গল যেন ঘন হয়ে উঠছিল। চারপাশে পাখির ডাক থেমে গিয়ে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছিল—যেন কিছু একটা ঘটতে চলেছে।
হঠাৎই সেই নীরবতা ভেঙে গেল। অন্ধকারের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল একদল ডাকাত। চোখে লোভ, হাতে অস্ত্র—তারা মুহূর্তের মধ্যে ঘিরে ফেলল গোপীনাথকে। প্রতিরোধ করার মতো কিছুই ছিল না তাঁর কাছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর সমস্ত কিছু লুট হয়ে গেল—টাকা, সামগ্রী, সব। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেন ঠিকই, কিন্তু হয়ে গেলেন সম্পূর্ণ নিঃস্ব। সেই গভীর জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি বুঝলেন—এক মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে।
ক্লান্ত, আহত আর ভাঙা মন নিয়ে তিনি কোনোভাবে পৌঁছালেন বর্ধমানের রাজদরবারে। সেখানে গিয়ে তিনি সব খুলে বললেন—কীভাবে জঙ্গলের মধ্যে তাঁর সর্বস্ব লুট হয়েছে। তাঁর কথা মন দিয়ে শুনলেন বর্ধমানের মহারাজা। তিনি শুধু একজন শাসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন দূরদর্শী। তিনি বুঝতে পারলেন, এই জঙ্গল শুধু বিপদের জায়গা নয়—এটি একদিন এক বিশাল জনপদে পরিণত হতে পারে।
তখনই তিনি এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি গোপীনাথকে সেই জঙ্গলমহলের একাংশ ইজারা হিসেবে দিয়ে বললেন—“তুমি এখানেই বসতি গড়ে তোলো, এই অরণ্যকে মানুষের বসবাসের জায়গা বানাও।” কথাটা শুনে গোপীনাথ কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে ছিলেন। যে জায়গা তাঁর সর্বনাশের কারণ হয়েছিল, সেই জায়গাই আবার তাঁর ভবিষ্যৎ হয়ে উঠতে পারে—এই ভাবনাটা সহজ ছিল না। কিন্তু তাঁর ভেতরে ছিল এক অদম্য সাহস। তিনি ভয়কে হার মানালেন।
তিনি ফিরে এলেন সেই জঙ্গলে—কিন্তু এবার একা নন, সঙ্গে ছিল স্বপ্ন আর দৃঢ় সংকল্প। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর তিনি জঙ্গল কাটতে লাগলেন, জমি পরিষ্কার করতে লাগলেন, মানুষ ডেকে আনলেন। ধীরে ধীরে সেই ভয়ংকর জঙ্গল বদলে যেতে লাগল। গাছের জায়গায় উঠল সুন্দর ঘর, শূন্যতার জায়গায় ভেসে উঠল মানুষের কণ্ঠস্বর, হাসি আর জীবনের সুর। এইভাবে গড়ে উঠল এক নতুন গ্রাম—গোপীনাথপুর।
সময় এগিয়ে চলল, আর গোপীনাথের সেই স্বপ্নকে আরও বড় করে তুললেন তাঁর বংশধর দুর্গাচরণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি শুধু বসতি নয়, এক সমাজ গড়ে তুললেন। ১৭৯৩ সালে তিনি একটি কালী মন্দির নির্মাণ করলেন, ১৮০৩ সালে তৈরি হলো শিব মন্দির। এই মন্দিরগুলো শুধু পূজার জায়গা ছিল না—এগুলো হয়ে উঠেছিল মানুষের মিলনস্থল, যেখানে সবাই একসঙ্গে আসত, কথা বলত, সম্পর্ক গড়ত। ধীরে ধীরে এই জায়গা এক প্রাণবন্ত জনপদে পরিণত হলো। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল দুর্গাচরণের নাম। সবাই বলতে শুরু করল—“এটা দুর্গাচরণের পুর।” আর সেই নামই সময়ের সঙ্গে হয়ে গেল—দুর্গাপুর।
এই গল্পে আরও একটি রহস্যময় অধ্যায় আছে, যা আজও মানুষ বিস্ময়ের সঙ্গে বলে। এক সন্ধ্যায়, পুকুরপাড়ে বসে ছিলেন এক শাঁখারি। হঠাৎ এক বধূ এসে তাঁর কাছে শাঁখা পরতে চাইলেন। শাঁখা পরানোর পর দাম চাইলে তিনি মৃদু হেসে বললেন—“চট্টোপাধ্যায়দের বাড়ির কুলুঙ্গিতে রাখা আছে।” এই বলে তিনি চলে গেলেন। পরে যখন সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা হলো, সত্যিই সেখানে শাঁখা-সিঁদুর পাওয়া গেল। সেই রাতেই পরিবারের সদস্যরা স্বপ্নে মা দুর্গার দর্শন পেলেন। দেবী তাঁদের আদেশ দিলেন—“আমাকে এখানে প্রতিষ্ঠা করো, পুজো করো।” সেই থেকেই শুরু হলো সেই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো, যা প্রায় তিনশো বছর ধরে আজও চলে আসছে।
সময় গড়াতে গড়াতে এই পুজো হয়ে উঠল এক বিশাল উৎসব। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত, নবমীর দিনে অন্নভোগ খেত, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত সেই ভোজ। ঢাকের আওয়াজে আকাশ মুখরিত হতো, আলোয় ভরে উঠত চারদিক। একসময় মহিষ বলির প্রথাও ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলেছে। তবুও কিছু নিয়ম আজও অটুট—নবমীর দিনে লাউয়ের তরকারি, আর দশমীতে চিঁড়ে ও চ্যাং মাছ পোড়া ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়।
এরপর এল ১৮৫৫ সাল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই অঞ্চলে রেলপথ স্থাপন করল। নতুন স্টেশন তৈরি হলো, আর সেই স্টেশনের নাম রাখা হলো “দুর্গাপুর।” এই প্রথমবার নামটি সরকারি স্বীকৃতি পেল। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড-এর কাছাকাছি হওয়ায় এই অঞ্চল দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। মানুষ বাড়ল, ব্যবসা বাড়ল, জীবন আরও গতিশীল হয়ে উঠল।
তারপর এল ১৯৪৭—দেশ স্বাধীন হলো। সময় আবার বদলাল। বিধানচন্দ্র রায়-এর পরিকল্পনায় দুর্গাপুরে গড়ে উঠল এক বিশাল শিল্পনগরী। ১৯৫০ থেকে ১৯৬০-এর মধ্যে তৈরি হলো স্টিল প্ল্যান্ট, কারখানা, আধুনিক রাস্তা। যে জায়গায় একসময় জঙ্গল ছিল, সেখানে আজ দাঁড়িয়ে আছে এক আধুনিক শহর।
তবুও, এত পরিবর্তনের মাঝেও কিছু গল্প কখনও মুছে যায় না। শরৎ এলেই, ঢাকের শব্দ উঠলেই, ধূপের গন্ধ ভেসে এলেই—মনে হয় সেই পুরনো সময় আবার ফিরে এসেছে। চট্টোপাধ্যায় বাড়ির আঙিনায় আজও মা দুর্গা বসেন, একই ভক্তি, একই নিয়মে। পরিবারের মানুষরা, যারা পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছে, তারা এই কয়েকটা দিনের জন্য ফিরে আসে নিজেদের শিকড়ে।
দুর্গাপুর তাই শুধু একটি শহর নয়। এটি এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প—একটি ডাকাতির রাত থেকে শুরু করে এক শিল্পনগরীর উত্থান পর্যন্ত। এটি এক মানুষের সাহস, এক পরিবারের বিশ্বাস, আর সময়ের পরিবর্তনের এক অনন্য কাহিনি। এই গল্প আজও বেঁচে আছে—প্রতিটি পূজোর আলোয়, প্রতিটি ঢাকের আওয়াজে, আর প্রতিটি মানুষের মনে। লেখাটি যদি কোন ভুল হয়ে থাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিবেন।
09/04/2026
আমরা গেছিলাম ১২ ই মার্চ ব্যাঙ্গালোর সেখান থেকে গাড়ি তে করে মাইসোর পরবর্তী দিন গেছিলাম চামুন্ডেশ্বরী মন্দির , এই মন্দির টা শহর থেকে প্রায় ৩,৪৫৮ ft উঁচু তে ,অপূর্ব সুন্দর এই মন্দির টি কথিত আছে এটি একটি পিঠস্থান এবং সতী মা এর চুল এখানে পড়েছিল, প্রত্যেক দিন এখানে পুজো হয়, আমরা বাইরে থেকে পুজোর ডালা নিয়ে ঢুকে ছিলাম,এখানে আঞ্চলিক ভাষায় এই সতী মা কে নন্দা দেবী বলেন ৬০ টা সিঁড়ি দিয়ে উঠে বিগ্রহ র কাছে পৌঁছানো যায়,
20/03/2026
🌿জানেন কি আপনার স্নানের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও শক্তি। পুরাণ ও সনাতনী শাস্ত্রের এ বিষয়ে আশ্চর্য ব্যাখ্যা।
********************************************
ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতি তে প্রতিটি দৈনন্দিন কাজের পিছনে একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। স্নান হলো তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্য কর্ম। গরুঢ় পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও পদ্ম পুরাণের মতো গ্ৰন্থ গুলোতে স্নান শুধু মাত্র শরীর পরিষ্কারের মাধ্যম হিসাবে নয়, বরং আধ্যাত্মিক শক্তি, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি অর্জনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উপায় হিসাবে গণ্য করা হয়। স্নান কে বর্ণনা করা হয়েছে বাহ্য ও অভ্যন্তরীণ শৌচ হিসাবে। যা মানুষের ভাগ্য চক্রকে গভীর ভাবে সচল রাখতে সাহায্য করে।
আজকে আমি বলবো স্নানের আধ্যাত্মিক দর্শন , স্নান করার গুরুত্বপূর্ণ সময়, কিভাবে স্নান দ্রারিদ্রতা মুক্তির অন্যতম পথ হয়ে ওঠে , কিভাবে স্নান মানসিক শক্তি জোগায়।
ভারতীয় দর্শন অনুযায়ী মানুষের স্থুল শরীর পঞ্চভূত অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম দ্বারা গঠিত। এগুলোর মধ্যে অপ বা জল তত্ত্ব আমাদের আবেগ , এবং প্রান শক্তির ধারক। পুরানে বলা হয়েছে দিনের শুরুতে আমরা যখন পবিত্র জল স্পর্শ করি, তখন আমাদের শরীরের কোষ গুলো জাগ্ৰত হয়। পুরাণে বলা হয়েছে স্নান হলো সেই মাধ্যম যা মানুষকে জীব থেকে শিবে রূপান্তরিত করার প্রথম একটি ধাপ অর্থাৎ শুভত্বের দিকে নিয়ে যায়। শাস্ত্র অনুযায়ী স্নান কখন করা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে মানুষের তেজ ও ভাগ্য । গড়ুর পুরাণ ও অন্যান্য শাস্ত্রে স্নান কে , প্রধাণত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১) ব্রম্ভস্নান , ২) দেব স্নান, ৩) ঋষি স্নান ৪) মনুষ্য স্নান।
এর মধ্যে ব্রম্ভ স্নান:- ব্রম্ভ স্নান হলো সর্ব শ্রেষ্ঠ স্নান। সূর্য দয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ব্রম্ভ মূহুর্তে এই স্নান করা হয়। শাস্ত্রমতে প্রকৃতিতে স্বাত্ত্বিক গুণ এই সময়ে সবচেয়ে বেশি থাকে। এই স্নান করলে বুদ্ধি তীক্ষ্ণ হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। লক্ষ্মীর আগমন ঘটে।
দেব স্নান;:- এই স্নান করা হয় সূর্য দয়ের ঠিক আগে, বা আকাশ যখন সামান্য পরিষ্কার হতে শুরু করে। এই সময়ে স্নান করলে মানুষের যশ, খ্যাতি এবং আত্ম বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
ঋষি স্নান:- ঋষি স্নান হলো তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্নান। ভোরের তারা যখন আকাশে দৃশ্য মান থাকে,এই স্নান ঐ সময়ে করা হয়ে থাকে। মানসিক শান্তি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই স্নান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মনুষ্য স্নান:- সূর্য দয়ের পর অর্থাৎ বেলা করে স্নান , । এই স্নান কেবল শারীরিক পরিচ্ছন্নতা দেয়। কিন্তু কোনো বিশেষ গ্ৰহগত বা আধ্যাত্মিক সুফল বয়ে আনে না। পুরাণে বলা হয়েছে যারা সূর্যাস্তের পর খুব দেরীতে স্নান করে , তাদের জীবনে স্থবিরতা ও নেতিবাচকতা বাসা বাঁধে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, স্নানের মাধ্যমে কুণ্ডলীতে থাকা গ্ৰহের অশুভ প্রভাব কাটানো সম্ভব।
১) স্নানের জলে সামান্য হলুদ মিশিয়ে স্নান করলে , বৃহস্পতি গ্ৰহ শক্তিশালী হয়। যা শিক্ষা ও ধন লাভে সাহায্য করে।
২) কালো তিল মিশিয়ে স্নান করলে শনিদেবের কুপ্রভাব থেকে মুক্তি মেলে।
৩) গোলাপ জল আর সুগন্ধি মিশিয়ে স্নান করলে , শুক্র গ্ৰহ প্রসন্ন হন, যা জীবনে বিলাসিতা আনে ।
ভগবান বিষ্ণু দেব বলেন অলসতা হলো জীবনের সবথেকে বড় শত্রু। যারা স্নান না করে ভোজন করেন বা বাইরে কাজে যান , তাদের শরীরে কলির বাস হয়।
দ্রারিদ্রতা থেকে মুক্তি:- পুরাণ বলে , লক্ষ্মী সেই গৃহেই বসবাস করেন , যেখানে সূর্য দয়ের আগে স্নান সেরে মানুষ যখন ইষ্ট নাম জপ করেন। স্নান হীন শরীর কে অপবিত্র বলা হয়েছে , যা অশুভ শক্তি কে আকর্ষণ করে। তাই স্নান সবসময় সূর্য দয়ের আগে করা উচিত।
স্নান কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং শান্তি বয়ে আনে:- গড়ুর পুরাণ বলছে , স্নানের ফলে শরীরের দশ টি ছিদ্র দিয়ে নির্গত দূষিত বায়ু পরিষ্কার হয়, যার ফলে মন শান্ত হয়। অশান্ত মনে কখনো ই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আর ভুল সিদ্ধান্ত ই দুর্ভাগ্যের মূল কারণ। পুরাণে বর্ণিত স্নানের পদ্ধতির সাথে বিজ্ঞানের দৃষ্টি ভঙ্গির ও মিল পাওয়া যায়। পুরাণে বলা হয়েছে স্নান শুরু করতে হয় পা থেকে মাথা পর্যন্ত। আধুনিক বিজ্ঞান ও একে সমর্থন করে। সরাসরি মাথায় জল ঢাললে রক্তচাপের আকস্মিক পরিবর্তন হতে পারে। পা থেকে জল দিলে শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে মাথার দিকে উঠে যায়, এবং সমতা রক্ষা করে।
এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্র কে সতেজ করে। যা দীর্ঘায়ু লাভের চাবিকাঠি।
পুরাণে কোনো কাজ ই সংকল্প ছাড়া পূর্ণ হয় না। স্নানের সময় আমরা যদি বলি " গঙ্গে চ যমুনে চৈব , গোদাবরী সরস্বতী। নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেহস্মিন.সন্নিধিং কুরু। ... তখন আমরা আসলে আমাদের ভিতরের চেতনার সাথে , ভারতের পবিত্র নদী গুলোর সংযোগ ঘটাই। এটি একটি সাইকোলজিক্যাল প্রসেস যা আমাদের মনে পবিত্রতার ভাব জাগিয়ে তোলে। এই মানসিক পবিত্রতাই সারাদিন মানুষ কে সৎ পথে চলতে , এবং কর্মে মনোযোগী হতে সাহায্য করে। পুরাণে বলা হয়েছে স্নানের পর পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে আমরা যখন জল দান করি, তখন পূর্ব পুরুষেরা আমাদের দু হাত তুলে আশির্বাদ করেন। যা আমাদের জীবনের বাধা বিপত্তি কাটায়। তাই এটা শুধু নিজের জন্য নয় , স্নান বংশগত ঋন মুক্তির ও একটা পথ।
শাস্ত্রমতে স্নান হলো আত্মাকে শুদ্ধ করে নতুন শক্তির সঞ্চার করার প্রক্রিয়া। যা নিয়মিত করলে জীবনে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি সুনিশ্চিত। 🌿🙏
🙏❤️ ওঁ নমঃ শিবায় ❤️🙏
07/03/2026
ঘরোয়ানান
05/03/2026
#শুভসকাল
30/01/2026
achievements of my son.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
Durgapur
