Sri Sri Jogeswari Ramkrishna Math

Sri Sri Jogeswari Ramkrishna Math

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sri Sri Jogeswari Ramkrishna Math, Liluah, Howrah.

01/04/2021

ও খুড়ি, খুড়ি গো। আমার একখানা ব্যবস্থা করে দাও না খুড়ি। খুড়োকে বলো না, আমায় যেন মন্ত্র দিয়ে দেয়----লক্ষীমণির করুণ মিনতি শুনে মা আর চুপ করে থাকতে পারলেন না। কাশীপুর উদ্যানবাটীতে ঠাকুরের শরীরের অবস্থা তখন ভালো নয়, তবু গিয়ে তাঁকে সবটুকু জানালেন----অল্প বয়সে বেধবা হওয়ায় কম কথা তো শুনতে হয় নি মেয়েটার, এবার যদি একখানা ব্যবস্থা করে দেন....। ঠাকুর আশ্বাস দিলেন----কাল সূর্য অস্ত গেলে তারে পাঠায়ে দিও গো রামলেলোর খুড়ি। দেখো গো, আঁধার হয় নি যেন।
মায়ের কাছে সুখবরটি পেয়ে দিদির আর আনন্দের সীমা রইল না। তাড়াতাড়ি পাঁজি খুলে দেখল দীক্ষার জন্য সময়টি একেবারে উত্তম। তারপর বলল, আচ্ছা খুড়ি, খুড়ো কি করে জানলো যে ঐ সময়টি দীক্ষার জন্য ভালো? খুড়ো তো আর পাঁজি দেখে নি। মা বললেন, তিনি যে অন্তর্যামী রে লক্ষী।
যথাসময়ে ফুল, ফল, দক্ষিণা নিয়ে দোতলার ঘরে পৌঁছে গেল লক্ষীদিদি। ঠাকুর বললেন, হ্যাঁ রা, দুখানি আসন পাত দেকিনি। তুই পূব মুখে বস, আর অপরটিতে এরে বসা। প্রদীপের আলোয় ঠাকুরের শ্রীমুখখানি তখন অপূর্ব লাগছে। কোন দেবতার কথা তোর বেশি মনে পড়ে রা? খুড়োর প্রশ্নের উত্তরে লক্ষীমণি বলল রাধামাধব। রাধার নাম শুনে ঠাকুর জয় রাধে! জয় রাধে! করতে লাগলেন। তারপর দিদির জিভে মন্ত্র লিখে কানে কানে বলেও দিলেন। আনন্দে লক্ষীদিদির চোখ দুটি তখন অশ্রুসিক্ত, মন্ত্র পেয়ে গেছে সে। এবার গুরুদক্ষিণা দিতে উদ্যত। ঠাকুর বললেন সবটুকু হয়ে যাক, তারপরে দিস ক্ষণ। ভাবমুখে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে, দীপ সহযোগে ঠাকুর তাকে পূজা করলেন। পাঁচটি গোটা ফল নিয়ে এসেছিল লক্ষীদিদি। সেগুলি তাকেই সমর্পণ করলেন ঠাকুর। তারপর বাতাসার অগ্রভাগ লক্ষীমণিকে খাইয়ে নিজেও মুখে দিলেন একটু। এসব দেখে তার দুচোখ বেয়ে নেমে আসল অশ্রুধারা----খুড়ো, তুমি আমার এঁটো খেলে? ঠাকুর বললেন, সে কি রে লক্ষী! এ যে তার শীতলা মায়ের পূজো করলে, মাকে খাইয়ে প্রসাদ পেলে। তুই যে এর মা রে লক্ষী। একদিন দেখিস কত লোকে তোরে মা বলে ডাকবে। তুই সবার মা হবি রে, মা হবি। মা! জয় মা! জয় মা! জয় মা! বলতে বলতে মাতৃভাবে বিভোর হয়ে গেলেন মায়ের আরেক সন্তান। অন্তর্যামী ঠাকুরের শ্রীচরণে জানাই শতকোটি প্রণাম।

জয় ঠাকুর জয় মা জয় স্বামীজী জয় গুরুদেব।

23/03/2021

" ঈশ্বরের কাছে কি করে প্রার্থনা করতে হয় শ্রীশ্রীমা তাঁর নিজের কথা বলে আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন ৷ "

সাধনজীবন সন্বন্ধে শ্রীশ্রীমা ছিলেন অত্যন্ত আপোষহীন | দক্ষিনেশ্বরের দিনগুলিতে তিনি রাত তিনটের সময় উঠে জপে বসতেন ৷ জনৈক ভক্তকে বলেছিলেন , " জপ-টপ কি জান ? .... ওর দ্বারা ইন্দ্রিয়- টিন্দ্রিয়গুলোর প্রভাব কেটে যায় ৷ "

... আরেকদিন বলেছিলেন , " জপধ্যান সব যথাসময়ে আলস্য ত্যাগ করে করতে হয় ৷" রোজ পনের , বিশ হাজার জপ যদি করতে পার , তাহলে ভাল হয় ৷ আগে তো করে দেখ .... না হয় তখন বলবে , তবে একটু মন দিয়ে করতে হয় ৷ তাতো নয় .... কেউ করবে না , কেবল বলে ... কেন হয় না ?

.... শ্রীশ্রীমা বলতেন , " কাজকর্ম করবে বইকি , কাজে মন ভাল থাকে ৷ তবে জপ , ধ্যান , প্রার্থনাও বিশেষ দরকার .... অন্ততঃ সকাল- সন্ধ্যায় একবার বসতেই হয় ৷ ওটি হল যেন নৌকার হাল ... সন্ধ্যাকালে একটু বসলে সমস্ত দিন ভালমন্দ কি করলাম না করলাম , তার বিচার আসে । তারপর গতকালের মনের অবস্থার সঙ্গে আজকের অবস্থার তুলনা করতে হয় , পরে জপ করতে করতে ইষ্টমুর্তির ধ্যান করতে হয় ৷

.... কাজের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা জপধ্যান না করলে কি করছ না করছ বুঝবে কি করে ?

একবার এক ভক্ত দীক্ষার পর শ্রীশ্রীমাকে প্রশ্ন করেছিলেন , " মা উপায় কি ? "
--- ঘরের কুলজিতে ছোট একটি ঘড়ি ছিল ... শ্রীশ্রীমা তা দেখিয়ে বললেন , " ঐ ঘড়ি যেমন টিকটিক্ করছে , ঠিক তেমনি নাম করে যাও ... তাতেই সব হবে , আর কিছু করতে হবে না ।

শ্রীশ্রীমা জপ -ধ্যানের সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরের প্রতি প্রেম ও অনুরাগ বৃদ্ধির কথাও বলতেন ৷ কতবার তিনি বলেছেন , " মন্ত্র- তন্ত্র কিছু নয় , ভক্তিই সব ৷ " ... এত জপ করলামই বল , আর এত কাজ করলামই বল , কিছুই কিছু নয় ... মহামায়া পথ ছেড়ে না দিলে কার কি সাধ্য ! হে জীব , শরনাগত হও ... কেবল শরনাগত হও , তবে তিনি দয়া করে পথ ছেড়ে দেবেন ৷

.... আরেক ভক্তকে বলেছিলেন , " জপ-তপের দ্বারা কর্মপাশ কেটে যায় .... কিন্তু ভগবানকে প্রেমভক্তি ছাড়া পাওয়া যায় না ৷ রাখালেরা কৃষ্ণকে জপ-ধ্যান করে পেয়েছিল ? ... না তারা , আয়রে , নেরে , খারে ' করে পেয়েছিল ?"

... ঈশ্বরের কাছে কি করে প্রার্থনা করতে হয় , শ্রীশ্রীমা তাঁর নিজের কথা বলে আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেছেন ৷ শ্রীশ্রীমা বলছেন , " আমি তখন দক্ষিনেশ্বরে রাত তিনটের সময় উঠে জপে বসতুম ... কোন হুঁশ থাকত না ৷ ... সেসব কি দিনই গিয়েছে , মা ! জোছনা রাতে চাঁদের পানে তাকিয়ে জোড় হাত করে বলেছি .... তোমার ঐ জোছনার মতো আমার অন্তর নির্মল করে দাও ৷"

শ্রীশ্রীমা বলতেন .... সাধন করতে করতে দেখবে আমার মাঝে যিনি , তোমার মাঝেও তিনি , দুলে বাগদি এবং ডোমের মাঝেও তিনি .... তবে তো মনে দীন ভাব আসবে

18/03/2021

মাষ্টারকে তিরস্কার ও তাঁহার অহঙ্কার চূর্ণকরণ

শ্রীরামকৃষ্ণ (মাষ্টারের প্রতি) -- তোমার কি বিবাহ হয়েছে?

মাষ্টার -- আজ্ঞে হাঁ।

শ্রীরামকৃষ্ণ (শিহরিয়া) -- ওরে রামলাল ! যাঃ, বিয়ে করে ফেলেছে !

মাষ্টার ঘোরতর অপরাধীর ন্যায় অবাক্ হইয়া অবনতমস্তকে চুপ করিয়া বসিয়া রহিলেন। ভাবিতে লাগিলেন, বিয়ে করা কি এত দোষ !

ঠাকুর আবার জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার কি ছেলে হয়েছে?

মাষ্টারের বুক ঢিপঢিপ করিতেছে। ভয়ে ভয়ে বলিলেন, আজ্ঞে, ছেলে হয়েছে।
ঠাকুর আবার আক্ষেপ করিয়া বলিতেছেন, যাঃ, ছেলে হয়ে গেছে। তিরস্কৃত হইয়া তিনি স্তব্ধ হইয়া রহিলেন।

তাঁহার অহঙ্কার চূর্ণ হইতে লাগিল। কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ আবার কৃপাদৃষ্টি করিয়া সস্নেহে বলিতে লাগিলেন, দেখ, তোমার লক্ষণ ভাল ছিল, আমি কপাল, চোখ -- এ সব দেখলে বুঝতে পারি। আচ্ছা, তোমার পরিবার কেমন? বিদ্যাশক্তি না অবিদ্যাশক্তি?

মাষ্টার -- আজ্ঞা ভাল, কিন্তু অজ্ঞান।

শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্ত হইয়া) -- আর তুমি জ্ঞানী?

তিনি জ্ঞান কাহাকে বলে, অজ্ঞান কাহাকে বলে, এখনো জানেন না। এখনও পর্যন্ত জানিতেন যে, লেখাপড়া শিখিলে ও বই পড়িতে পারিলে জ্ঞান হয়। এই ভ্রম পরে দূর হইয়াছিল। তখন শুনিলেন যে, ঈশ্বরকে জানার নাম জ্ঞান, ঈশ্বরকে না জানার নাম অজ্ঞান। ঠাকুর বলিলেন, তুমি কি জ্ঞানী! মাষ্টারের অহঙ্কারে আবার বিশেষ আঘাত লাগিল।

শ্রীরামকৃষ্ণ -- আচ্ছা, তোমার সাকারে বিশ্বাস, না নিরাকারে?

মাষ্টার (অবাক হইয়া স্বগত) -- সাকারে বিশ্বাস থাকলে কি নিরাকারে বিশ্বাস হয়? ঈশ্বর নিরাকার, এ বিশ্বাস থাকিলে ঈশ্বর সাকার এ বিশ্বাস কি হইতে পারে? বিরুদ্ধ অবস্থা দুটাই কি সত্য হইতে পারে? সাদা জিনিস -- দুধ, কি আবার কালো হইতে পারে?

মাষ্টার -- আজ্ঞা, নিরাকার -- আমার এইটি ভাল লাগে।

শ্রীরামকৃষ্ণ -- তা বেশ। একটাতে বিশ্বাস থাকলেই হল। নিরাকারে বিশ্বাস, তাতো ভালই। তবে এ বদ্ধি করো না যে, এইটি কেবল সত্য আর সব মিথ্যা। এইটি জেনো যে, নিরাকারও সত্য আবার সাকারও সত্য। তোমার যেটি বিশ্বাস, সেইটিই ধরে থাকবে।

মাষ্টার দুইই সত্য এই কথা বারবার শুনিয়া অবাক হইয়া রহিলেন। এ কথা তো তাঁহার পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে নাই।

তাঁহার অহঙ্কার তৃতীয়বার চূর্ণ হইতে লাগিল। কিন্তু এখনো সম্পূর্ণ হয় নাই। তাই আবার একটু তর্ক করিতে অগ্রসর হইলেন।

মাষ্টার -- আজ্ঞা, তিনি সাকার, এ বিশ্বাস যেন হল! কিন্তু মাটির প্রতিমা তিনি তো নন --

শ্রীরামকৃষ্ণ -- মাটি কেন গো! চিন্ময়ী প্রতিমা।

মাষ্টার চিন্ময়ী প্রতিমা বুঝিতে পারিলেন না। বলিলেন, আচ্ছা, যারা মাটির প্রতিমা পূজা করে, তাদের তো বুঝিয়ে দেওয়া উচিত যে, মাটির প্রতিমা ঈশ্বর নয়, আর প্রতিমার সম্মুখে ঈশ্বরকে উদ্দেশ করে পূজা করা উচিত।

শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্ত হইয়া) -- তোমাদের কলকাতার লোকের ওই এক! কেবল লেকচার দেওয়া, আর বুঝিয়ে দেওয়া! আপনাকে কে বোঝায় তার ঠিক নাই! তুমি বুঝাবার কে? যাঁর জগৎ, তিনি বুঝাবেন। যিনি এই জগৎ করেছেন, চন্দ্র, সূর্য, মানুষ, জীবজন্তু করেছেন! জীবজন্তুদের খাবার উপায়, পালন করবার জন্য মা বাপ করেছেন, মা বাপের স্নেহ করেছেন তিনিই বুঝাবেন। তিনি এত উপায় করেছেন, আর এ উপায় করবেন না? যদি বুঝাবার দরকার হয় তিনিই বুঝাবেন। তিনি তো অন্তর্যামী। যদি ওই মাটির প্রতিমাপূজা করাতে কিছু ভুল হয়ে থাকে, তিনি কি জানেন না -- তাঁকেই ডাকা হচ্ছে? তিনি ওই পূজাতেই সন্তুষ্ট হন। তোমার ওর জন্য মাথা ব্যথা কেন? তুমি নিজের যাতে জ্ঞান হয়, ভক্তি হয়, তার চেষ্টা কর।

এইবার তাঁহার অহঙ্কার বোধ হয় একেবারে চূর্ণ হইল।

তিনি ভাবিতে লাগিলেন, ইনি যা বলেছেন তাতো ঠিক! আমার বুঝাতে যাবার কি দরকার! আমি কি ঈশ্বরকে জেনেছি -- না আমার তাঁর উপর ভক্তি হয়েছে! আপনি শুতে স্থান পায় না, শঙ্করাকে ডাকে! জানি না, শুনি না, পরকে বুঝাতে যাওয়া বড়ই লজ্জার কথা ও হীনবুদ্ধির কাজ! একি অঙ্কশাস্ত্র, না ইতিহাস, না সাহিত্য যে পরকে বুঝাব! এ যে ঈশ্বরত্ত্ব। ইনি যা বলেছেন, মনে বেশ লাগছে।

ঠাকুরের সহিত তাঁহার এই প্রথম ও শেষ তর্ক।

শ্রীরামকৃষ্ণ -- তুমি মাটির প্রতিমাপূজা বলছিলে। যদি মাটিরই হয়, সে পূজাতে প্রয়োজন আছে। নানারকম পূজা ঈশ্বরই আয়োজন করেছেন। যার জগৎ তিনিই এ সব করেছেন -- অধিকারী ভেদে। যার যা পেটে সয়, মা সেইরূপ খাবার বন্দোবস্ত করেন।

এক মার পাঁচ ছেলে। বাড়িতে মাছ এসেছে। মা মাছের নানারকম ব্যঞ্জন করেছেন -- যার যা পেটে সয়! কারও জন্য মাছের পোলোয়া, কারও জন্য মাছের অম্বল, মাছের চড়চড়ি, মাছ ভাছা -- এই সব করেছেন। যেটি যার ভাল লাগে। যেটি যার পেটে সয় -- বুঝলে?

মাষ্টার -- আজ্ঞে হাঁ।

শ্রীম কথিত -- শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত

11/03/2021

" সাধু চিনব কেমন করে ? "

" যাঁর মন প্রাণ অন্তরাত্মা ঈশ্বরে গত হয়েছে, তিনিই সাধু। যিনি কামিনী-কাঞ্চনত্যাগী,তিনিই সাধু।
যিনি সাধু তিনি স্ত্রীলোককে ঐহিক চক্ষে দেখেন না, সর্বদাই তাদের অন্তরে থাকেন, --- যদি স্ত্রীলোকের কাছে আসেন, তাঁকে মাতৃবৎ দেখেন ও পূজা করেন। সাধু সর্বদা ঈশ্বরচিন্তা করেন, ঈশ্বরীয় কথা বই কথা কন না।আর সর্বভূতে ঈশ্বর আছেন জেনে তাদের সেবা করেন। মোটামুটি এইগুলি সাধুর লক্ষণ।"

---- ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ

04/03/2021

EXPERIENCE OF SRI RAMAKRISHNA WITH RADHA RANI

So tradition says that it is impossible for one to be blessed with a vision of Sri Krishna unless one first obtains the grace of Sri Radha, whose pure love has for ever enthralled Sri Krishna.

Sri Ramakrishna now appreciated the value of this
propitiatory worship of Sri Radha and began to pray to her with single-minded devotion. Within a short time, Radha revealed herself to him. This time also he felt the figure vanish into his own body. The Master used to say:
"It is impossible to describe the heavenly beauty and sweetness ot Radha. Her very appearance showed that she had completely forgotten all personal considerations in her passionate attachment to Krishna. Her complexion was light yellow."

After this vision Sri Ramakrishna began to feel himself to be Radha. It was his constant meditation on her character that obliterated his own personality and transformed him into another Radha. Now was fully manifested in him that supreme passion and attachment which characterised her. He was the very picture of Mahabhava. The Brahmani and the learned devotees like Vaishnav Charan were amazed at this and found it to be identical with the unique state of Radha described in the Puranas, and of Sri Chaitanya, hundreds of years later. The Master referring to this period of his Sadhana said : "The manitestation, in the same individual, of nineteen different kinds of emotion for God is designated in the books on Bhakti as Mahabhava. An ordinary man takes a whole life time to express even a single one of these. But in this body (meaning himself) there has been a perfect manifestation of all nineteen."

The way to God . As Taught by Sri Ramakrishna.
By Swami Lokeshwarananda.

19/02/2021

হৃদয়ের অত্যাচার।
________________
একদিন পরমহংসদেব জ্বরগ্রস্ত হয়ে শুয়ে আছেন, এমন সময় কোন ভক্ত একটি ফুলকপি নিয়ে এল এবং তাঁর কাছে রাখাতে ঠাকুর আহ্লাদে উঠে বসলেন ও কপিটার খুব প্রশংসা করে বললেন “দেখ, তােমরা ঐ ঘরের মধ্যে ইহা লুকাইয়া রাখিয়া আইস।
হৃদয়কে বলিও না যে, আমি ইহা দেখিয়াছি, তাহা হইলে আমায় বড় গালাগালি দিবে!” আজ্ঞা করা মাত্র কপিটাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হল। পরমহংসদেব বলতে লাগলেন, “দেখ, হৃদে আমার যে সেবা করিয়াছে, তাহা আমি কখনই ভুলিব না। হয়তাে মা কালীর ইচ্ছায় সে না থাকিলে আমার দেহ এতদিন থাকিত না। আমি যখন পঞ্চবটীতে ধ্যান করিতাম, হৃদে আমার পশ্চাতে যাইয়া ভয় দেখাইবার জন্য ইট মারিত। কিয়ৎকাল পরে আপনি চলিয়া আসিত। একদিন সে সাহসে ভর করিয়া পঞ্চবটীর মধ্যে প্রবেশ করে। সিদ্ধভূমি পঞ্চবটী, তথায় যাইবামাত্র আমি বলিলাম 'কে ও হৃদে' ?" হৃদে বলিল, “মামা, তুমি একলা বসিয়া কি করিতেছ?” "আমি তাহাকে তথায় বসিয়া ধ্যান করিতে বলিলাম। হৃদে উপবেশন করিবামাত্র ‘মামা গাে! আমার পিঠে কে আগুন ঢালিয়া দিল’ বলিয়া চিৎকার করিয়া উঠিল। আমি তাহার পৃষ্ঠে হস্তাৰ্পণ করিয়া ‘ভয় নাই’ বলায়, সে চুপ করিল। সেই মুহূর্ত হইতে কেমন মা কালীর ইচ্ছা, হৃদয়ের ভাবান্তর হইয়া গেল। যেন পাঁচ বােতল মদের নেশা আসিয়া উপস্থিত হইল ও আনন্দে বিভাের হইয়া পড়িল। পরদিন রাত্রে আমি বহির্দেশে গিয়াছি, হৃদে আমার পশ্চাৎ চলিয়া আসিয়া উচ্চৈঃস্বরে, চিৎকার করিয়া বলিতে লাগিল, 'ওরে রামকৃষ্ণ, তুইও যে, আমিও সে, তােতে আমাতে প্রভেদ কি? চল, আমরা আর এখানে থাকিব না।' আমি তাড়াতাড়ি উহার নিকটে আসিয়া বলিলাম, “চুপ চুপ! এখনই সকলে জানিতে পারিবে। আমাদের এখানে
থাকা ভার হইবে। ওরে, আমরা কি হইয়াছি ? চুপ কর। হৃদে কিছুতেই শুনিল না, উত্তরােত্তর চিৎকার বাড়াইল। আমি তখন উপায় না দেখিয়া তাহাকে বলিলাম, এককণা শক্তিধারণ করিতে পারিলি না, তবে আর কি হইবে, জড়বৎ হইয়া যা। অমনি হৃদে ভূমিতে পতিত হইয়া বলিল,
‘মামা, কি সর্বনাশ করিলে! আমি আর অমন করিব না'।" তারপর থেকে হৃদয় বাস্তবিকই জড়বৎ হয়ে গেল। তিনি বলতে লাগলেন, "হৃদে যেমন আমার সেবা করিয়াছে, মা কালী উহার আশাতীত ফলও দিয়াছেন।
দেশে বিলক্ষণ জমি-জমা করিয়াছে, লােককে টাকা ধার দেয়, এই মন্দিরে
কর্তার ন্যায় হইয়া রহিয়াছে এবং এত লােকে উহার সম্মান করিয়া থাকে।”
এইসব কথা বলার সময় হৃদয় সেখানে এসে উপস্থিত হল। তিনি আসা মাত্র পরমহংসদেব তাকে সম্বােধন করে বললেন, “দেখ, আমি ইহাদের কপি আনিতে বলি নাই, উহারা আপনারা আনিয়াছে, মাইরি বলিতেছি, আমি উহাদের কিছুই বলি নাই।” হৃদয় এই কথা শুনে ঠাকুরকে তিরস্কার করলেন। তার সে মূর্তি মনে হলে এখনও আমাদের হৃৎকম্প উপস্থিত হয়! পরমহংসদেব সরােদনে মা কালীকে লক্ষ্য করে বলতে লাগলেন, “মা, তুই আমার সংসারবন্ধন কাটিয়া দিলি, পিতা গেল, মাতা গেল, ভাই গেল, স্ত্রী গেল, জাতি গেল —শেষে কি না হৃদয়ের হাতে আমার এই দুর্গতি হইতে লাগিল!” এই কথা বলে তিনি পুনরায় হাসতে হাসতে বলতে লাগলেন, “ও আমায় বড় ভালবাসে, ভালবাসে বলিয়াই বকে, ছেলেমানুষ, উহার বােধ হয় নাই। উহার কথায় কি রাগ করিতে হয়, মা ?” এই বলতে বলতে সমাধিস্থ হয়ে পড়লেন।
কিন্তু হৃদয়ের রাগ মিটল না। ঠাকুর ক্রমশ: হৃদয়ের অত্যাচারে নিতান্ত কাতর হয়ে উঠলেন। হৃদয় সেসময় সকলেরই মর্যাদা হানি করতে আরম্ভ করেছিল। ঠাকুরবাড়ির প্রত্যেক কর্মচারী তার জন্য উৎপীড়িত ও মর্মাহত হয়ে থাকত। পরমহংসদেব বার বার নিষেধ করতেন। হৃদয় নিষেধে কান না দিয়ে গর্বের সাথে বলেছিল, “রাসমণির অন্ন ব্যতীত তােমার গতি নাই। তুমি সকলকে ভয় করিবে, আমি কাহাকে গ্রাহ্য করি ? না হয় চলিয়া যাইব।” গরিব ব্রাহ্মণ, জগদম্বার কৃপায় পাঁচজনের পূজনীয় হয়ে সম্মানের সাথে বাস করছিলেন, কিন্তু অদৃষ্টের দোষে তা হৃদয় বুঝতে পারল না। তার বিপদের মূহুর্ত এগিয়ে এল।
কালীমন্দির প্রতিষ্ঠার বাৎসরিক উৎসবের দিনে সেখানে খুব ধুমধাম হত সেজন্য সেদিন ত্রৈলােক্যবাবু সপরিবারে সেখানে এসেছিলেন। উৎসবের দিন সকালে হৃদয় পূজা করতে যেত। ওখানে ত্রৈলােক্যবাবুর একটা দশ বছরের বিবাহিতা কন্যা তসরের শুদ্ধবস্ত্র পরে দাঁড়িয়ে ছিল। হৃদয় সেই বালিকাটির চরণে পুস্পাঞ্জলি দেয়। এর‌ আগে পরমহংসদেব ঐ প্রকার পূজা করতেন। হৃদয় তা অনুকরণ করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনল। কন্যার পায়ে চন্দনের চিহ্ন দেখে তার মা জিজ্ঞাসা করায় হৃদয়ের কাণ্ডকারখানা প্রকাশ হয়ে যায়। ত্রৈলােক্যবাবুর স্ত্রী কন্যার অকল্যাণ হবে ভেবে কাঁদতে লাগলেন। তাই দেখে ত্রৈলােক্যবাবু ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেন এবং দারোয়ান দিয়ে একবস্ত্রে হৃদয়কে মন্দির থেকে বহিষ্কার করে দিলেন এবং সেই ক্রোধে
পরমহংসদেবকেও নাকি চলে যাবার জন্য আদেশ দিয়েছিলেন।
দ্বারবান এই সংবাদ নিয়ে পরমহংসদেবের কাছে উপস্থিত হল। তিনি হেসে বললেন, “তােমার বাবুর আমি কি করিলাম?” এই বলে তিনি সেই অবস্থায় মন্দির থেকে বের হয়ে একমনে চলতে লাগলেন।
পরমহংসদেব যখন বাবুদের বৈঠকখানার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কে জানে কি কারণে ত্রৈলােক্যবাবু জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কোথায় যাইতেছেন?” এই কথা
বলায়, পরমহংসদেব অমনি ফিরলেন এবং তাদের কাছে গিয়ে বসলেন।
ত্রৈলােক্যবাবু, হৃদয়ের সম্বন্ধে নানা কথা বললেন এবং কন্যাটির অকল্যাণের
আশঙ্কায় ভীত হয়ে হৃদয়কে মন্দির ত্যাগ করতে বলেন।
ঠাকুর তাঁকে অভয় দিয়ে পুনরায় নিজ ঘরে ফিরে এলেন।
হৃদয় যদু মল্লিকের উদ্যানে বাস করতে লাগলেন। রামকৃষ্ণদেব দুই বেলা তাঁর নিজের অংশ থেকে অন্নব্যঞ্জন ও মিষ্টান্নাদি পাঠিয়ে দিতেন এবং নিজে তাকে দেখে আসতেন। হৃদয় এই সময়ে পরমহংসদেবকে
মন্দির থেকে চলে আসবার জন্য অনুরােধ করে ও নানারকম যুক্তি দিয়ে বলে যে ,কোন স্থানে গিয়ে একটা কালীমূর্তি স্থাপন করে উভয়ে সুখে বাস করবেন। পরমহংসদেব এই কথা শুনে বলেছিলেন, “তুই কি আমায় লইয়া দ্বারে দ্বারে ফিরি করিয়া বেড়াইবি ?”.......
শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনবৃত্তান্ত,লেখক রামচন্দ্র দত্ত- থেকে সংগৃহীত।
প্রণাম নিও ঠাকুর।

19/02/2021

দর্পহারী নারায়ণ -----------

আগেই বলা হয়েছে যে ঈশ্বর ভক্তের সকল অপরাধ ক্ষমা করেন কিন্তু অহংকার সহ‍্য করেন না। ঠাকুর একদিন ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের বিজ্ঞান চেতনার দর্পচূর্ণ করেছিলেন। ডাক্তার সরকার বিজ্ঞানের বাহিরে কিছু থাকা সম্ভব নয় বলে মাঝে মাঝে মত প্রকাশ করতেন। একদিন ঠাকুর যুবক ভক্তদের " কে জানে মা কালী কেমন " গানটি সমবেত কন্ঠে গাইতে বলেন। গাইতে গাইতে অল্পক্ষণের মধ্যেই অনেকের ভাবাবেশ দেখা দিল।
লাটু দাঁড়িয়ে পড়ে সমাধিস্থ হয়ে পড়লেন, নিরঞ্জন তাকে সামলাতে গিয়ে সমাধিস্থ, পিছনের ঘরে বালক মনীন্দ্র সমাধিস্থ। ঠাকুর অন্তর্যামী - দেখতে পাচ্ছেন ডাঃ সরকারের মনের অবিশ্বাস, তাই তাঁকে বললেন - " তুমি তো একজন বড় ডাক্তার। দেখ দেখি ওদের হঠাৎ এমন হলো কেন?" ডাক্তার সরকার প্রথমে হাত, পা, পরে যন্ত্রযোগে হৃৎপিণ্ড, সর্বশেষে সকলের চোখে আঙুল দিয়ে সবাইকে পরীক্ষা করে ঠাকুরকে বললেন - " বিজ্ঞান শাস্ত্র মতে এরা সকলেই মৃত।" সমাধিস্থ ভক্তেরা কিছু পরে ঠাকুরকে প্রনাম করতে এলে ডাঃ সরকার বিস্মিত ভাবে বললেন , " দেখছি এসবই তোমার খেলা। আজ আমি তোমার কাছে পরাজিত। আমার বিদ‍্যাভিমান, এমনকি সকল অভিমানই আজ চূর্ণ হয়ে গেল। তুমি যদি বলো, তোমার দর্শনে এত লোক এসেছে সবার জুতো মালা করে গলায় পর়ে আমি স্বচ্ছন্দে রাস্তায় ঘুরে আসতে রাজি।" শুনে ঠাকুর স্মিত হাস‍্যে বললেন - " তুমি মহৎ ব‍্যক্তি, তোমার কথাই কাজের সমান।"

--------------------------------------------------------------------

অনুশোচনার অশ্রুতেই ঈশ্বর লাভ হয় ------

একদিন ভুবনেশ্বরের মঠে পন্ডিত ক্ষীরোদ প্রসাদ বিদ‍্যাবিনোদ অত‍্যন্ত আক্ষেপ নিয়ে স্বামী ব্রহ্মানন্দকে বলছিলেন, " মহারাজ ঠাকুরকে দেখার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু অদৃষ্টের এমন পরিহাস যে দর্শন করার মানসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দক্ষিণেশ্বরে যাবার জন্য আলমবাজার পর্যন্ত গিয়ে মনের মধ্যে নানা ভাব ওঠাতে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি, ওখান থেকেই ফিরে এলাম। " এই কথা বলে তিনি অশ্রু বিসর্জন করছেন, আর খালি বলছেন , " আমি হতভাগা "। এতে মহারাজ বলছেন, " আপনি আলমবাজার পর্যন্ত গেলেন তো , ওতেই দর্শন হয়েছে।" ক্ষীরোদ প্রসাদ নয় মস্তকে অশ্রু বিসর্জন করতে করতে বলছেন, " না মহারাজ আমি হতভাগা, আমার দর্শন হয়নি।" মহারাজ গুরুগম্ভীর স্বরে বলছেন - " আমি বলছি আপনার দর্শন হয়েছে।" কন্ঠস্বরে চমকে উঠে তাকিয়ে দেখলেন , মহারাজের স্থান বসে আছেন স্বয়ং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেব।

( হোমাগ্নি - ২০১২-২০১৩)

19/02/2021

*সূর্য মহারাজ বেলুড়মঠের অনেক পুরনো কথা শোনাতেন, একদিন আমাকে বলছেন*—

এই যে দেখছো নীচে, সিড়ি ৷ এখানেই মা কালীকে দেখেছিলেন মহাপুরুষ মহারাজ (স্বামী শিবানন্দজী ) ৷

বারান্দার পাশের ঘরে জোর কালীকীর্তন চলছে ৷ মহাপুরুষ মহারাজ বাইরে বেরিয়ে দেখলেন মা কালী বসে আছেন ৷ হালকা নীল মুখ ৷ বড়- বড় চোখ ৷ খোলা চুল ৷

আরেকদিন— নীচের ঘরে কালীকীর্তন হচ্ছে ৷ মহাপুরুষ মহারাজ বারান্দা থেকে দেখলেন, *দক্ষিণেশ্বর থেকে মা কালী নদীর উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বেলুড়মঠে এলেন* ৷ বারান্দায় বসে কীর্তন শুনতে লাগলেন ৷

আমি সূর্য মহারাজকে( স্বামী নির্বাণানন্দজী মহারাজ ) প্রশ্ন করেছিলাম—মহারাজ, এসব আপনি বিশ্বাস করেন ?
তিনি হাসতেন, বলতেন— আগে বিশ্বাস করতে কষ্ট হতো, এখন বিশ্বাস করি ৷ *সাধন-ভজন বাড়াও ৷তোমারও বিশ্বাস হবে* ৷

*এই যে বেলুড়মঠ দেখছো সাদা চোখে, এর গভীরে আরেকটা মঠ আছে, জ্যোতিপুঞ্জ দিয়ে তৈরী* ৷

*শুধু মা কালী কেন, মহাদেবকেও দেখতে পাবে ৷ সুক্ষ্ম শরীরে কত সাধু এখানে তপস্যা করে চলেছেন* ৷
*স্বামীজী বলে গেছেন—বেলুড়মঠে কখনও ব্রহ্মজ্ঞের অভাব হবে না* ৷
🌱🌿🌱🌿🌱🌿🌱
*স্বামী সোমেশ্বরানন্দ*
প্রণাম মহারাজ 🙏🏻🙏🏻🙏🏻

16/02/2021

কথা হচ্ছে — 'আমাকে' সবচেয়ে ভালোবাসি আমরা ৷ 'আমি' বলে নিজেকে ভালোবাসি ৷ অপরকে ভালবাসি কেন ? আমার ভালো লাগে বলে ভালোবাসি ৷ এই 'আমি'-টাই হল কেন্দ্র ৷
ছেলেকে ভালবাসি কেন ? আমার ছেলে বলে তাকে ভালোবাসি ৷ আরেকটি ছেলেকে কি সেরকম ভাবে ভালোবাসি ? না ৷ যদি আরেকটি ছেলেকে ভালোবাসি, তবে আমার ছেলের কথা চিন্তা করে তাকে ভালোবাসি ৷ আমার ছেলে যদি এমন হতো — এই ভেবে ৷ তবে কেউ আত্মহত্যা করছে কেন ? কারন কষ্ট সহ্য করতে পারছে না বলে ৷ সেখানেও 'আমি' ৷
সাধারণের জন্য 'আমাকে' ছাড়া যায় নাকি ? সব্বোনাশ !
অনেকে আছে ছেলে আঘাত দিলেও তাকে ভালবাসে ৷ একে বলে 'মোহ' ৷ এক সময় ভালবাসা ছিল তা continue করছে ৷ চণ্ডীতে বলছেন — বৈশ্য, তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে তবু সে আত্মীয়দের কথা ভাবছে ৷ আবার আছে, রাজা সুরথকেও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে, তখনও সে রাজ্যের কথা, আত্মীয়ের কথা ভাবছে ৷ মেধা ঋষির কাছে গিয়ে রাজা জিজ্ঞাসা করছে, এমন হচ্ছে কেন ? ঋষি বললেন — 'এরই নাম মায়া ৷' বাঁচবার উপায় কি ? তাঁর শরণাগত হওয়া ৷ তাঁকে আরাধনা করে ভোগ চাইলে তিনি ভোগ দেবেন, স্বর্গ চাইলে স্বর্গ দেবেন ইত্যাদি ৷
ঠাকুর বলছেন, 'মায়াবীকে ধর !' 'ধর' মানে তাঁর ওপর নির্ভর কর ৷

-স্বামী ভুতেশানন্দ

16/02/2021

রামকৃষ্ণ প্রসঙ্গে
রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সমকালীন মানুষ। কিন্তু তাঁদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক যোগাযোগ ঘটেনি। দুজনের সঙ্গে দুজনের যে একেবারেই দেখা হয়নি, তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন উপলক্ষে দেখা হলেও কেউ কারও দিকে আগ্রহ বাড়িয়ে এগিয়ে যাননি।
একবারই সাক্ষাতে রবীন্দ্রনাথ
গান গেয়েছিলেন।
নন্দন বাগানে কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে ।ব্রাম্ভ সমাজের বাৎসরিক উৎসব চলছিল। রবীন্দ্রনাথ উপস্হিত
ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে আমায় মাথা নত করে দাও এই গান টা শুনিয়েছিলেন।
রাগ ইমন কল্যাণ
তাল তেওড়া
স্বরলিপি রচনা কাল
১৯০৬
গান তৈরি হয়েছে অনেক আগেই
স্বরলিপি কার কাঙলী চরণ সেন। ওই গান শুনে।
ঠাকুরের আনন্দের সীমা ছিলোনা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব সমকালীন মানুষ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব দুজনেই প্রায় একই সময়ের দুই মহাপুরুষ হলেও তাঁদের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল একবার কি?না
কয়েকবার দেখাও হয়েছিল, কিন্তু কেউ কারও দিকে আগ্রহ বাড়িয়ে যাননি। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কিছু অনুষ্ঠানেও গিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ। সেখানেও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা হয়েছিল রামকৃষ্ণের কিন্তু সে পর্যন্তই। এদিকে রামকৃষ্ণের সঙ্গে ব্রাহ্মসমাজের যোগাযোগ ছিল। ব্রাহ্মসমাজের অনেকেই তাঁকে দেখতে আসতেন, তিনিও যেতেন। ব্রাহ্মসমাজের বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে রামকৃষ্ণের সাক্ষাৎ হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম রবীন্দ্রনাথের পিতৃদেব দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে রামকৃষ্ণের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৮৬৬ সালে, তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর।

কলকাতায় কাশীশ্বর মিত্রের বাড়ি, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ও রামকৃষ্ণের দেখা হয়েছিল

শ্রীরামকৃষ্ণ রবীন্দ্রনাথকে চিনেছিলেন মূলত তাঁর গানে। প্রিয় শিষ্য নরেন্দ্রর (স্বামী বিবেকানন্দ) কণ্ঠে বেশ কয়েকটি রবীন্দ্রসংগীত শুনে ভাবোন্মাদ হয়েছিলেন রামকৃষ্ণ। যেহেতু নরেন্দ্র নিজেও ছিলেন একজন উচ্চমানের ধ্রুপদি, তাই রবীন্দ্রনাথের ধ্রুপদ আঙ্গিকের কিছু গান নিজের কণ্ঠে তুলে নিয়ে গাইতেন। আর গুরু শ্রীরামকৃষ্ণের পুরো অস্তিত্বই ছিল সংগীতময়। নিজে অনেক গান গেয়েছেন এবং অনেকের কাছ বহু গান শুনেছেন। এমন কোনো ঘটনা পাওয়া যায় যায় না, যেখানে শ্রীরামকৃষ্ণ-নরেন্দ্রর দেখা হয়েছে অথচ কোনো গান হয়নি। এমন গানের আসরে ঠাকুর নরেন্দ্রর কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের যে গানগুলো শুনেছেন, সেগুলো হলো, ‘গগনের থালে রবিচন্দ্র-দীপক জ্বলে’ (শিখ ভজনের আশ্রয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের গান), ‘দিবানিশি করিয়া যতন’, ‘তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা’, ‘আমার মাথা নত করে দাও’তোমার চরণ ধুলার তলে

এমনকি সরাসরি বসে রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে গান শোনার অভিজ্ঞতাও হয়েছিল শ্রীরামকৃষ্ণের। ১৮৮৩ সালের ২ মে। কাশীশ্বর মিত্রের বাড়িতে ছিল নন্দনবাগান অনেক জ্ঞানীগুণীর সঙ্গে সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন ২২ বছরের যুবক রবীন্দ্রনাথ এবং সবার ঐকান্তিকভাবে প্রার্থিত পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। বাড়ির সব থেকে বড় ঘরে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনাসভার শুরুতে শ্রীরামকৃষ্ণের অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে গান শুনিয়েছিলেন ঠাকুরকে। আর সে গানটি হলো যুবক রবীন্দ্রনাথের লেখা ব্রহ্মসংগীত, ‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধুলার তলে’। নিবিষ্ট মনে সেই গান শুনতে শুনতে রামকৃষ্ণ ভাবোন্মাদ হয়েছিলেন। সবাই পরম বিস্ময়ে এক অতীন্দ্রিয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছিলেন সে সভায়। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং শ্রদ্ধায় বিমোহিত হয়েছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠে শ্রীরামকৃষ্ণ সেদিন সবার সঙ্গে লুচি, ডাল, তরকারি, মিষ্টি খেয়ে উপস্থিত সবাইকে, বিশেষ করে যুবক রবীন্দ্রনাথকে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান।

তিন দিন পরে তৎকালীন ‘দ্য স্টেটসম্যান’ কাগজে ওই উৎসবের যে খবর বেরিয়েছিল, তার শেষ লাইনটি ছিল এ রকম, ‘The choir was led by baboo Rabindra Nath Tagore’। এই চাক্ষুষ দর্শনের প্রায় পঞ্চাশ বছর পর, ত্রিষ্টুপ মুখোপাধ্যায়কে একটি চিঠিতে এই দেখার ঘটনাটি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘পরমহংসদেবকে একদিন দশ মিনিটের জন্য দূর থেকে দেখেছি।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিশাল সৃষ্টিকর্মে এক-দুটি ক্ষেত্রে শ্রীরামকৃষ্ণের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানেই করেছেন সেখানে গভীর তাৎপর্যপূর্ণভাবেই এনেছেন। এক দিকে রবীন্দ্রনাথ, যিনি ব্রহ্মবাদী। নিরাকার ব্রহ্মের উপাসক। অন্যদিকে শ্রীরামকৃষ্ণ, যিনি সর্বধর্মে অবগাহন করে হয়েছেন এক ঋদ্ধ বিনম্রতার প্রতীক এবং সাকার বিশ্বাসী। ১৯৩৩ সালে ত্রিষ্টুপ মুখোপাধ্যায়কে লেখা একটি চিঠিতে কবি তাঁর ‘শ্রদ্ধেয়’ রামকৃষ্ণ সম্পর্কে কিছু লেখার বিষয়ে নিজের অপারগতার কথা জানালেও ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত ‘মালঞ্চ’ উপন্যাসে রয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রসঙ্গ। উপন্যাসের তিনটি চরিত্র, আদিত্য, নীরজা ও সরলা। আদিত্য-নীরজা দুজনের বিরাট ফুল বাগান। স্বামী আদিত্যের ছিল ফুলের ব্যবসা। বাগানে ফুলের সুশোভিত সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলে মিশে থাকে দুজনের সংসার। এক সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয় নীরজা। এ সময় আদিত্যকে বাগানের কাজে সহযোগিতা করতে আসে তার মাস্টার মশাইয়ের মেয়ে সরলা। ক্রমেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। শয্যাশায়ী নীরজা তা অনুভব করে। এদিকে স্বামী হারানোর আশঙ্কায় ছটফট করে ওঠে নীরজার মন। নীরজা রামকৃষ্ণ ঠাকুরের ভক্ত। বিছানায় মাথার ওপরে টাঙানো পরমহংসদেবের ছবি। তাঁর কাছেই আশ্রয় খোঁজে দিনরাত। দেবর রমেনের সঙ্গে আলাপের সময়ে একবার নীরজা বলেছে, ‘যখন চোখের জল ভেতরে ভেতরে বুক ভেসে যায়, তখন ওই পরমহংসদেবের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকি।’ সব হারানোর যন্ত্রণায় একসময় নীরজা দুহাত জোড় করে ঠাকুরের ছবির দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে, ‘বল দাও ঠাকুর, বল দাও, মুক্তি দাও অধম নারীকে। আমার দুঃখ আমার ভগবানকে ঠেকিয়ে রেখেছে, পূজা অর্চনা সব গেল আমার।’ রামকৃষ্ণ প্রসঙ্গে এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রবীন্দ্রনাথকে দেখা যায়।

১৯৩৪ সালে প্রকাশিত ‘মালঞ্চ’ উপন্যাসের পর শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগবশত ১৯৩৬ সালে তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে শান্তিনিকেতনে বসে ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ নামে ১২ লাইনের একটি কবিতাটি রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ।

১৯৩৭ সালের ১ মার্চ কলকাতায় শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আট দিনের এক বিরাট ধর্ম মহাসভা আয়োজন করা হয়। ভারতসহ পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের দার্শনিক-সাহিত্যিক-শিল্পীরা শ্রীরামকৃষ্ণের ‘যত মত তত পথ’ এই অমোঘ বাণী নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার তৃতীয় দিন ৩ মার্চ কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সভাপতি হিসেবে ইংরেজিতে তিনি একটি দীর্ঘ ভাষণ দিয়েছিলেন। পরদিন ৪ মার্চ আনন্দবাজার পত্রিকায় পুরো ভাষণটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়। সেই ভাষণের প্রথম অংশটি উল্লেখ করলেই এটা স্পষ্ট বোঝা যায় রবীন্দ্রনাথও উপলব্ধি করেছিলেন, শ্রীরামকৃষ্ণের ধর্মকেন্দ্রিক সমন্বয় ভাবনা সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া প্রয়োজন।





শ্রীরামকষ্ণ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ভক্তি ও শ্রদ্ধা কেমন ছিল তা আরও স্পষ্ট বোঝা যাবে, তাঁর মানবতাবাদী সাধনা দিয়ে রচিত ‘পরমহংস রামকৃষ্ণদেব’ কবিতাটির দিকে তাকালে যে কবিতার একটি ইংরেজি অনুবাদ কবি নিজেই করেছিলেন। সম্পূর্ণ কবিতা টি
নিচে রইল।
বহু সাধকের বহু সাধনার ধারা
ধেয়ানে তোমার মিলিত হয়েছে তারা
তোমার জীবনে অসীমের লীলাপথে
নতুন তীর্থ রূপ নিল এ জগতে
দেশবিদেশের প্রণাম আনিল টানি
সেথায় আমার প্রণতি দিলাম আনি।”

15/02/2021

রামতারক ছিলেন রামকৃষ্ণদেবের খুড়তুতো ভাই, অর্থাৎ খুদিরাম চট্টোপাধ্যায়ের ছোট ভাইয়ের ছেলে। চাকরির উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৫৮ সালে কলকাতায় আসেন। ঠাকুরের বয়স তখন ২২ বছর। রামতারক ঠাকুরের চেয়ে বেশ কয়েক বছরের বড় ছিলেন। ঠাকুর তাঁকে হলধারী বলে সম্বোধন করতেন। মথুরবাবু রামকৃষ্ণের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হ‌ওয়ার কারণে হলধারীর চাকরি পেতে অসুবিধা হয় না।
হলধারী ছিলেন বুদ্ধিমান, সুপণ্ডিত এবং শাস্ত্রজ্ঞ। তাঁকে কালী মন্দিরের পূজার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় ও হৃদয়কে রাধা কৃষ্ণের মন্দিরে স্থানান্তরিত করা হয়। এইখানেই গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়।
হলধারী ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক। তথাপি শক্তি (কালী) পূজাতে তাঁর আপত্তি ছিল না। কিন্তু নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ হ‌ওয়ার কারণে তিনি মন্দিরের পাচকদের রান্না করা খাবার খেতে অস্বীকার করেন (তাছাড়া রানীমা নীচু গোত্রের হ‌ওয়াতে তাঁর একটু দ্বিধা তো ছিল‌ই)। যাহোক মথুরবাবু সমস্ত আয়োজন করে দিয়েছিলেন যাতে তিনি নিজেই রান্না করে খেতে পারেন। মথুরবাবু অবশ্য তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়ে বলেছিলেন যে রামকৃষ্ণদেব হৃদয়েরা মন্দিরের প্রসাদই পেয়ে (খেয়ে) থাকেন। প্রত্যুত্তরে হলধারী বিনয়ের সাথে বলেন আমার জ্যাটতুতো ভাই আধ্যাত্মিকতার উঁচু শিখরে পৌঁছে গিয়েছে, সে অনেক কিছু করতে পারে, আমি সেখানে এখনও যেতে পারিনি তাই আমি আমাদের প্রথা অনুযায়ী চলাই শ্রেয় মনে করি।
হলধারীর কথাবার্তায় মধুরতার অভাব প্রকাশ পেত। জটিল হলেও তাঁর‌ প্রগাঢ় আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ছিল। কিন্তু তাঁর জ্ঞান বেশি দূর এগুতে পারেনি কারণ তার মূলে ছিল জাতের (ব্রাহ্মণত্ব) ও পাণ্ডিত্যের গরিমা। এই সেবক‌ই সে সময় ঠাকুরের ভক্তদের অন্যতম ছিলেন। রামকৃষ্ণদেব হলধারীর স্বভাবের সাথে পরিচিত ছিলেন তবুও তিনি হলধারীর সাথে আন্তরিকতার সাথে ব্যবহার করতেন।
প্রথানুযায়ী বড় বড় উৎসবের সময় মা কালীকে পাঁঠা বলি দিয়ে ভোগ দেওয়া হত। এই ব্যাপারে হলধারী একটু ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি এই নিষ্ঠুরতা সহ্য করতে পারতেন না। তিনি ছিলেন বিষ্ণুর ভক্ত, বিষ্ণুর ভক্তেরা অহিংসুক ও নিরামিষাশী হন। মায়ের রুধির তৃষ্ণা এবং ভয়ংকর রূপ হলধারীর কাছে বিরক্তিকর ছিল। মা কালী জন্ম মৃত্যুর বিধান দেওয়ার অধিকারিণী। হলধারী ভক্তিপূর্ণ ভাবে পূজো করতেন না। মা কালী এটা লক্ষ্য করে একদিন তাঁর ধ্বংসাত্মক রূপ ধরে হলধারীকে দেখা দিলেন। তিনি হলধারীকে তিরস্কার করে তক্ষুনি মন্দির থেকে চিরকালের জন্য দূর হয়ে যেতে বল্লেন। আরো বল্লেন যে হলধারীর অনাদরের পূজোতে তিনি অপ্রসন্ন। এজন্য তাঁর পুত্রের প্রাণ চলে যেতে পারে। এ ঘটনার কয়েকদিন পর হলধারী তাঁর সন্তানের মৃত্যুর খবর পেলেন।
এই ঘটনাটি তিনি অকপটে ঠাকুরের কাছে ব্যক্ত করেন। তারপর স্থির হয় হলধারী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পূজো করবেন আর হৃদয় আগের মতো মা কালীর পূজো করবেন।
তৎকালীন ভারতের বৈষ্ণব-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই পরকীয়া-প্রেম সাধনার পথে অগ্রসর হতেন। হলধারীও রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের পূজোর কাজে বহাল হ‌ওয়ার পরে গোপনে ওই সাধনপথ গ্রহণ করেন। কিন্তু গোপনতা বজায় থাকে না, লোক জানাজানি হয়ে যায়। আবার কেউ কিছু বলতেও পারে না কারণ হলধারী ছিলেন বাক্-সিদ্ধ, কাউকে কিছু বললে (অভিশাপ) সেটা ফলে যেত। হলধারীর গোপন কথা ঠাকুরের কর্ণগত হয়। তিনি এও জানতে পারলেন যে হলধারীকে লোকে নিন্দা করছে। উপায়ন্তর না পেয়ে ঠাকুর তাঁকে সব কথা খুলে বলেন। হলধারী উল্টো বুঝে রাগান্বিত হয়ে বলেন, "তুই আমার থেকে ছোট হয়ে আমাকে অশ্রদ্ধা করলি? তোর মুখ দিয়ে রক্ত উঠবে!"
এই ঘটনার কিছুদিন পরে একদিন রাত্রিতে ঠাকুরের মুখ দিয়ে সত্যি সত্যিই রক্ত বের হতে লাগল। সিমপাতার রসের মতো রক্তের মিসকালো রং - এত গাঢ় ছিল যে, কিছুটা বাইরে পড়ল কিছুটা মুখের ভিতর জমে সামনের দাঁতের প্রান্ত থেকে বটের ঝুড়ির মতো ঝুলতে লাগল। এ খবর পেয়ে সকলে ছুটে এল। হলধারীও ঐ সংবাদ পেয়ে ছুটে এল। ঠাকুর তাঁকে বললেন, 'দাদা, শাপ দিয়ে তুমি আমার এ কি অবস্থা করলে, দেখ দেখি!' ঠাকুরের অবস্থা দেখে হলধারীও কাঁদতে লাগল।
কালীবাড়িতে সেদিন একজন বয়স্ক ও বিজ্ঞ সাধু ছিলেন। গোলমাল শুনে তিনিও দেখতে গেলেন, তিনি রক্তের রং পরীক্ষা করে আশ্বাস দেন যে ভয়ের কোন কারণ নেই , রক্ত বের হয়ে খুব ভাল হয়েছে। তিনি বলেন যে ঠাকুর যোগসাধনা করতেন। হঠযোগের চরমে জড়সমাধি হয়, ঠাকুরেরও তাই হয়েছিল। সুষুম্নাদ্বার (রক্তবাহী শিরা- তন্ত্রশাস্ত্রে যে তিনটি পথে প্রাণবায়ু প্রবাহিত যথা ইড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্না) খুলে গিয়ে রক্ত মাথায় ওঠার কথা কিন্তু মাথায় না উঠে রক্ত মুখের ভিতরে তালু বা টাকরা অঞ্চলে একটা পথ তৈরি করে বেরিয়ে গেল, এতেই ভাল হল কারণ, নির্বিকল্প সমাধিতে চলে গেলে জ্ঞান ফিরে আসে না। সাধুটি বলেছিলেন যে ঠাকুরের শরীরটা দিয়ে ইচ্ছাময়ীর বিশেষ কোন কাজ আছে; তাই তিনি ঠাকুরকে এভাবে রক্ষা করলেন।
ঠাকুরের সঙ্গে হলধারীর সম্বন্ধ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। হলধারী প্রায় সাত বছর শ্রীশ্রীঠাকুরের সান্নিধ্যে ছিলেন। তথাপি তিনি ঠাকুরকে সম্পূর্ণ বুঝে উঠতে পারেন নি। হলধারী ছিলেন নিষ্ঠাবান তাই তিনি ঠাকুরের পৈতা ফেলে দেওয়া বা উলঙ্গ হয়ে থাকা পছন্দ করতেন না। হৃদয়কে জিজ্ঞাসা করতেন ব্রাহ্মণ হয়ে ছোট (রামকৃষ্ণদেব) কি করে পৈতা খুলে ফেলে..... ও এমন কি আধ্যাত্মিক উচ্চাবস্থায় বিরাজ করে যে ওর যা ইচ্ছে তাই করতে পারে! মাঝে মাঝে তাঁর মনে হতাে ঠাকুরের মাথার দোষ হয়েছে।
পূজার সময় ঠাকুরের চোখে বহমান প্রেমাশ্রু, ভগবৎ নাম শুনলে অপূর্ব উল্লাস ও ভগবান দর্শনের জন্য বিশুদ্ধ ব্যাকুলতা দেখে হলধারী ভাবতেন, রামকৃষ্ণের ঈশ্বর প্রদত্ত আবেশ না হয়ে থাকলে ওই দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় না। হলধারী কিছুতেই ঠাকুরের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ করতে পারতেন না। হলধারীর গীতা রামায়ণাদি শাস্ত্র বিচার করার সময় তাঁর দাম্ভিকতার চরম অভিমানের প্রকাশ পেত। ঠাকুর তাঁকে বলতেন তোমার শাস্ত্রে যা লেখা আছে তার উপলব্ধি আমার আছে, সে শুনেই বলত যে তুই গণ্ডমূর্খ, তুই আবার এসব কথা কি করে বুঝবি।

হলধারী তাঁর শিশুপুত্রের মৃত্যুর পর থেকে মা কালীকে তমোগুণময়ী বলে মনে করতেন। একদিন ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করেন যে তামসীকে পূজো করলে কি আধ্যাত্মিক উন্নতি হয়? তুমি কেন তমোগুণময়ীকে পূজো কর? ঠাকুর ইষ্টনিন্দা শুনে মনে খুব ব্যাথা পেলেন। তারপর কালীমন্দিরে গিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে মা কালীকে জিজ্ঞাসা করলেন, "মা, হলধারী শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত - সে কেন তোকে তমোগুণময়ী বলে- তুই কি সত্যি সত্যিই তাই? মা কালীর কাছে সঠিক উত্তর জেনে ঠাকুর আনন্দে হলধারীর কাছে ছুটে গিয়ে তাঁর কাঁধে চেপে বসে উত্তেজিত হয়ে বলতে লাগলেন, "তুই মাকে তামসী বলিস? মা কি তামসী? মা যে সব - ত্রিগুণময়ী, আবার শুদ্ধসত্ত্বগুণময়ী!" ঠাকুরের তখন ভাবাবিষ্ঠ, তাঁর কথায় ও স্পর্শে হলধারীর অন্তরের দৃষ্টির উন্মোচন হল! তিনি তখন পূজার আসনে উপবিষ্ট ছিলেন - কনিষ্ঠের ভিতর সাক্ষাৎ মা কালীর আবির্ভাব প্রত্যক্ষ করে ফুল চন্দন দিয়ে ঠাকুরের পায়ে ভক্তিভরে অঞ্জলি প্রদান করলেন! পরে হৃদয় তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, "মামা, এই তুমি বল রামকৃষ্ণকে ভূতে পেয়েছে, তবে আবার তাঁকে পূজা করলে যে?" হলধারী বলিলেন, "কি জানি, হৃদু, কালীঘর হতে ফিরে এসে সে আমাকে কি যে একরকম করিয়া দিল, আমি সব ভুলে তার ভিতর সাক্ষাৎ ঈশ্বরপ্রকাশ দেখিতে পেলাম! কালীমন্দিরে যখনই আমি রামকৃষ্ণের কাছে যাই, তখনই আমাকে ওরকম করে দেয়! এ এক চমৎকার ব্যাপার - কিছু বুঝতে পারি না!"
কিন্তু হলধারী ঠাকুরের ভিতর বার বার ঈশ্বরের প্রকাশ দেখতে পেলেও শাস্ত্রবিচার করতে বসলেই তাঁর পাণ্ডিত্যাভিমান জেগে উঠতো। ঠাকুরবাড়িতে প্রসাদ পেতে কাঙালীদেরকে নারায়ণজ্ঞান করে ঠাকুর তাদের ভোজনাবশেষ গ্রহণ করেছিলেন - হলধারী তাতে বিরক্ত হয়ে তাঁকে বলেন , "তোর ছেলেমেয়ের কেমন করিয়া বিয়ে হয়, তা দেখব!" জ্ঞানাভিমানী হলধারীর মুখে ওই রকম কথা শুনে ঠাকুর উত্তেজিত হয়ে বলেছিলেন, "তবে রে শালা, শাস্ত্রব্যাখ্যা করবার সময় তুই না বলিস, জগৎ মিথ্যা ও সর্বভূতে ব্রহ্মদৃষ্টি করিতে হয়? তুই বুঝি ভাবিস, আমি তোর মতো জগৎ মিথ্যা বলব, অথচ ছেলেমেয়ের বাপ হব! ধিক্ তোর শাস্ত্রজ্ঞানে!"......
সংগৃহীত।
প্রণাম নিও ঠাকুর।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Howrah?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address


Liluah
Howrah