LZ USUF VAI
আপনার মৃত্যুর ঠিক ৪০ দিন আগে আসমানে আপনার নামে একটা ঘোষণা হয়?
সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বলতেন, মৃত্যুর ৪০ দিন আগে থেকেই রুহের দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক আলগা হতে শুরু করে। অথচ আমরা দিব্যি খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি, প্ল্যান করছি... কিছুই টের পাই না।
কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এতটাই দয়ালু যে, বান্দাকে খালি হাতে নেন না। যাওয়ার আগে তিনি ১টি চুপচাপ ইশারা পাঠান। সেই ইশারাটা কী?
১. দুনিয়ার স্বাদ হঠাৎ ফিকে লাগা শুরু করে
কথিত আছে, মৃত্যু ঘনিয়ে এলে মানুষের অন্তরে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। যে খাবারটা কালও প্রিয় ছিল, আজ সেটা বিস্বাদ লাগে। যে বন্ধুদের আড্ডা ছাড়া দিন কাটতো না, হঠাৎ তাদের সঙ্গ অসহ্য লাগে। মন শুধু একটা কথাই বলে — "কিছু একটা মিসিং"।
ইমাম গাজ্জালী রহ. তাঁর 'ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন' কিতাবে এক বুজুর্গের ঘটনা বলেন। সেই বুজুর্গ মৃত্যুর ৪০ দিন আগে থেকে হঠাৎ চুপ হয়ে যান। পরিবার জিজ্ঞেস করলে বলেন, "আমার জিভে দুনিয়ার কোনো খাবারের স্বাদ পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে, আমাকে অন্য কোথাও দাওয়াতের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।" ঠিক ৪০ দিনের মাথায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
২. চোখের পানি কারণ ছাড়াই চলে আসে
ব্যাখ্যা ছাড়া কান্না। নামাজে দাঁড়ালে, কুরআন শুনলে, এমনকি রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে চোখ ভিজে যায়। দুনিয়ার কোনো কষ্ট না, তবুও বুকের ভেতর হাহাকার।
উলামায়ে কেরাম বলেন, এটা রুহের কান্না। কারণ রুহ বুঝে যায়, তার দুনিয়ার সফর শেষের দিকে। সে তার রবের সাথে মোলাকাতের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিন্তু আমরা ভাবি, "হয়তো মন খারাপ"।
৩. সেই ১টি ইশারা: "ফিরে আসার তীব্র ইচ্ছা"
এবার আসল কথাটা শুনুন।
মৃত্যুর ৪০ দিন আগে আল্লাহ বান্দার অন্তরে তওবার একটা আগুন জ্বালিয়ে দেন। হঠাৎ করে মনে হয়, "ইশ! জীবনে কত গুনাহ করলাম। যদি আরেকটা সুযোগ পেতাম, সব শুধরে নিতাম। যদি মা-বাবার পা ধরে মাফ চাইতে পারতাম। যদি একবার সিজদায় পড়ে মন খুলে কাঁদতে পারতাম।"
এই ইচ্ছাটাই হলো আল্লাহর পাঠানো শেষ ইশারা। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা "ওয়ার্নিং" না, এটা একটা "মার্সি কল"। তিনি চান, বান্দা যেন পাক-সাফ হয়ে তাঁর কাছে ফিরে।
সমস্যা হলো, ৯০% মানুষ এই ইশারাকে 'ডিপ্রেশন' বা 'মনের ভুল' ভেবে উড়িয়ে দেয়। দুনিয়ার কাজে আরও বেশি ডুবে যায়। আর ১০% মানুষ ঠিকই বুঝে ফেলে। তারা তওবা করে, কাদা-মাটির দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
শেষ কথাটা কলিজায় লাগবে...
প্রিয় ভাই/বোন, আপনার-আমার মৃত্যুর ৪০ দিন কখন শুরু হবে, সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন। হতে পারে, আপনি এই লেখাটা পড়ছেন, আর আপনার ৪০ দিন অলরেডি শুরু হয়ে গেছে।
কুরআনে আল্লাহ বলেন: "কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন জমিনে সে মৃত্যুবরণ করবে" $Quran 31:34$
তাই এই ইশারার জন্য ৪০ দিন অপেক্ষা করবেন না। আজ, এখনই, এই মুহূর্তে যদি বুকের ভেতর তওবার ইচ্ছাটা জাগে, বুঝে নেবেন — এটাই আল্লাহর ডাক।
উঠে দাঁড়ান। ২ রাকাত নামাজ পড়ুন। মা-বাবাকে ফোন দিন। যার হক মেরেছেন, ফিরিয়ে দিন। কারণ আমরা কেউ জানি না, আমাদের নামে আসমানে ঘোষণা কবে হয়ে যাবে...
আপনি কি চান, মৃত্যুর আগে আল্লাহ আপনাকে এই ইশারাটা দিন? কমেন্টে 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুসনাল খাতিমাহ' লিখে দুআ করুন — "হে আল্লাহ, আমাকে সুন্দর মৃত্যু দিও"।
আর এই পোস্টটা শেয়ার করুন। হয়তো আপনার শেয়ারের কারণে কারো ৪০ দিন শুরু হয়ে গেছে, আর সে ফিরে আসার রাস্তা খুঁজে পাবে। এটাই হবে আপনার জন্য সাদকায়ে জারিয়া।
C
এটাই দুনিয়ার বাস্তবতা। জিবনের দৈর্ঘ্য ক্ষুদ্র।এ জীবনে আপনি বড়ই একা।সামর্থ্যের মধ্যে যা খেতে মন চায়,খেয়ে ফেলেন।যা পড়তে মন চায়,কিনে ফেলেন।পরিবারের দায়িত্ব যতটুকু পারেন,পালন করেন।
সময়ের একটা অংশ ইবাদতে কাটিয়ে দিন।এটাই ভালো জীবন।
যতটুকু সময় পান,উপভোগ করুন;কে জানে,কার সময় কখন শেষ?!
#তোমাকে #তো
দেখতে দেখতে আবার একটা ঈদ চলে আসলো।
চারপাশে আগের মতোই আনন্দের আমেজ—ঘরে ঘরে ব্যস্ততা, নতুন কাপড়ের গন্ধ, বাজারের ভিড়, মানুষের মুখে ঈদের হাসি।
চাঁদ ওঠার খবর শুনে সবাই যখন আপনজনদের “ঈদ মোবারক” বলতে ব্যস্ত,
তখন আমি নীরবে বসে আছি…
হাতে ফোনটা নিয়ে, চোখ দুটো বারবার স্ক্রিনে গিয়ে থেমে যাচ্ছে।
শুধু একটা নাম খুঁজছি।
শুধু একটা মেসেজের অপেক্ষায় আছি—
তোমার সেই ছোট্ট “ঈদ মোবারক” বলা মেসেজটার জন্য।
একটা সময় ছিল, ঈদ মানেই তোমার কথা আরও বেশি মনে পড়তো।
সারাদিন যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন,
মনের ভেতরে আলাদা একটা আনন্দ থাকতো—
কারণ জানতাম, দিনের কোনো এক সময়
তোমার একটা মেসেজ ঠিকই আসবে।
হয়তো মাত্র দুটো শব্দ— “ঈদ মোবারক”,
কিংবা তার সাথে ছোট্ট করে “ভালো থেকো”।
কিন্তু বিশ্বাস করো,
সেই কয়েকটা শব্দের মধ্যেই আমার পুরো ঈদটা লুকিয়ে থাকতো।
সেই ছোট্ট মেসেজটুকুই দিনটাকে অন্যরকম সুন্দর করে দিতো।
আজও ঈদ এসেছে,
সবকিছু আগের মতোই আছে—
চাঁদ উঠেছে, মানুষ আনন্দ করছে,
বাড়ির সবাই ব্যস্ত, চারপাশে হাসির শব্দ।
শুধু আগের মতো নেই তুমি।
নেই সেই হঠাৎ করে ফোনের স্ক্রিনে তোমার নাম ভেসে ওঠা।
নেই সেই বুকের ভেতর কেঁপে ওঠা অনুভূতি।
নেই সেই এক মুহূর্তের নিঃশব্দ আনন্দ।
আজও ফোনে অনেক মেসেজ আসে—
অনেকেই শুভেচ্ছা জানায়,
“ঈদ মোবারক” বলে।
আমি উত্তরও দেই।
হয়তো মুখে হাসিও রাখি।
কিন্তু বুকের ভেতর কোথাও একটা শূন্যতা ঠিকই রয়ে যায়।
কারণ হাজার মানুষের শুভেচ্ছার মাঝেও
আমি আজও শুধু সেই একজনের মেসেজটাই খুঁজি।
যার একটা “ঈদ মোবারক”
আমার পুরো দিনটাকে বদলে দিতে পারতো।
জানো, কিছু মানুষকে জীবনের থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়,
কথা বন্ধ হয়ে যায়,
সময় অনেক কিছু বদলে দেয়…
তবুও কিছু অভ্যাস, কিছু অপেক্ষা, কিছু অনুভূতি
কখনো বদলায় না।
ঈদ এলেই আজও আমার মন অবচেতনভাবে তোমার দিকেই তাকিয়ে থাকে।
বারবার মনে হয়—
হয়তো আজ আসবে।
হয়তো এতদিন পর হঠাৎ একটা মেসেজ আসবে।
হয়তো তুমি শুধু লিখবে, “ঈদ মোবারক।”
আর আমি অনেকক্ষণ সেই ছোট্ট লেখাটার দিকে তাকিয়ে থাকবো।
হয়তো তুমি এখন আর আমাকে মনে রাখো না।
হয়তো তোমার জীবনে এখন নতুন মানুষ, নতুন ব্যস্ততা, নতুন গল্প।
হয়তো ঈদের দিনেও আমার কথা একটুও মনে পড়ে না।
কিন্তু আমার কাছে কিছু অনুভূতি আজও আগের মতোই রয়ে গেছে।
ঈদের চাঁদ উঠলেই বুকের ভেতর পুরনো স্মৃতিগুলো জেগে ওঠে।
তোমার সাথে কাটানো কথাগুলো,
অপেক্ষার সেই মুহূর্তগুলো,
আর সেই ছোট্ট একটা মেসেজের জন্য ভীষণ আগ্রহ নিয়ে বসে থাকার দিনগুলো।
অদ্ভুত না?
একটা মানুষ কতটা গভীরে থেকে গেলে
তার মাত্র দুটো শব্দের অভাবও
এতটা অনুভব হয়।
সবকিছু থাকার পরেও
কোথাও যেন কিছু অপূর্ণ থেকে যায়।
ঈদের এত আনন্দের মাঝেও
মনে হয়, কিছু একটা নেই…
আর সেই না-থাকাটা তুমি।
দেখতে দেখতে আবার একটা ঈদ চলে আসলো।
আর আমি আজও আগের মতোই অপেক্ষা করছি—
নীরবে, কোনো দাবি ছাড়া, কোনো অভিযোগ ছাড়া।
শুধু একটিবার যদি ফোনটা কেঁপে উঠতো…
একটিবার যদি স্ক্রিনে তোমার নামটা ভেসে উঠতো…
একটিবার যদি তুমি লিখতে—
“ঈদ মোবারক।”
তাহলে হয়তো এই ঈদটাও
আবার আগের মতো একটু সুন্দর লাগতো।
হয়তো বুকের ভেতরের এতদিনের জমে থাকা শূন্যতাটা
এক মুহূর্তের জন্য হলেও ভরে যেত।
কিন্তু কিছু অপেক্ষা আছে
যেগুলো পূরণ হয় না,
শুধু মনের ভেতরে নীরবে থেকে যায়।
আর আমার জন্য
ঈদ মানেই আজও—
চারপাশের হাজার শুভেচ্ছার মাঝেও
শুধু তোমার সেই না-আসা “ঈদ মোবারক” মেসেজটার অপেক্ষায় থাকা।
#তোমাকে
Click here to claim your Sponsored Listing.
Telephone
Website
Address
Chilmari
Tinsukia
KURIGRAM
